চাঁদপুরে ত্রাণের গোডাউন নেই, জেলা প্রশাসক

চাঁদপুরে ত্রাণের গোডাউন নেই, জেলা প্রশাসক

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেছেন, চাঁদপুর জেলা ও প্রতিটি উপজেলায় সর্বেনিন্ম ১কিলোমিটার ও সর্বোচ্চো ২ কিলোমিটার মডেল সড়ক স্থাপন করতে হবে। জেলায় কোন ত্রাণের গোডাউন নেই। জায়গা দেখা হচ্ছে ত্রানের গোডাউন থেরি করার জন্য।
রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলার মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, প্রতি মাসের সোমবার বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সাথে জেলার ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরের সাথে কথা বলতে পারেন। তাই সকল দপ্তরকে এ ব্যপারে সজাগ থাকতে হবে।
ছোট ছোট বিষয়গুলো গুরুত্বের সহিত দেখতে বিভিন্ন দপ্তর গুলোকে নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানে আগামি অক্টোবর মাসে ৪, ৫ ও ৬ তারিখে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হবে। সকল দপ্তরকে তাদের সর্বোচ্চো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেতে হবে এবং মেলায় উপস্থাপন করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামের্ন্ট শুধু খেলা নয়, এটি আদর্শ, চেতনা ও উন্নয়নের প্রচার। জাতির পিতাকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে আমাদের দৃশ্যমান করতে হবে। সরকারের সকল উন্নয়ন কাজগুলো শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড বা ব্যানারের মাধ্যমে প্রচার করতে হবে। বর্তমান অর্থ বছরটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর।
এ বছরে নতুনভাবে চাঁদপুরে অনেক উন্নয়নমূলক কাজের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপন। ইতিমধ্যে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অধ্যক্ষও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিগত মাসের কার্যবিবরণী পাঠন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান। সভায় স্ব স্ব বিভাগের বিভিন্ন দিকের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন বিভাগের কর্মকর্তাগণ।
ই-গভার্ন্যান্স কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিটি বিভাগকে তাদের কার্যক্রম জেলা ওয়েব পোর্টালে আপলোড ও আপডেট করতে হবে। এটি একটি তথ্য ভান্ডার। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে লোখা তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
তাছাড়া সকল দপ্তরের প্রকল্পের তালিকা পোর্টালে দেয়া হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখার জন্য সহকারী কমিশনার ও আইসিটি শাখাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
আগামী ১ মাসের মধ্যে সকল বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাঁদপুর ই-ফাইলে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানান। জাতীয় পর্যটন সংস্থা প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় এখাত থেকে কাঙ্খিত আর্থিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/ সংস্থাসমূহের উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যটনকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
জেলা পরিষদ প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতে গৃহিত প্রকল্পের সংখ্যা ৬০৩টি। এর মধ্যে ৪১৫টি প্রকল্পের সম্পন্ন হয়েছে। ১৮৮টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়াও এডিপি, এডিপি সংরক্ষিত খাতে গৃহিত প্রকল্পের সংখ্যা ৩২৯টি।
এরমধ্যে ২১৩টি সমাপ্ত এবং ৮১টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ প্রসঙ্গে বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম সুন্দর ভাবে চলছে। প্রস্তাবিত ২৯১টি কমিনিউটি ক্লিনিকের মধ্যে ২১৮টি চালু রয়েছে।
ই-হেলথ কার্যক্রম জুলাই মাসে শাহরাস্তি উপজেলায় ৪৩ জন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৬৭জন, মতলব উত্তর উপজেলায় ১৪জন, মতলব দক্সিণ উপজেলায় ১১জন, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৪৭জন, হাইমচর উপজেলায়১১জন এবং কচুয়া উপজেলায় ২২জন রোগীকে স্কাইপি/ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয়। সেবাপ্রাপ্তি রোগীর সংখ্যা মোট ২১৫জন।
জুলাই মাসে ২২টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর মাধ্যমে ৪২২৫জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতাল প্রসঙ্গে বলেন, চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ, জরুরী বিভাগ, বহিঃবিভাগ ও প্রসূতি বিভাগের কার্যক্রম সন্তোষজনক। হাসপাতালে নিয়ে আসা রোগী/রোগীদের সাথে থাকা লোকজন দালালদের মাধ্যমে হয়রানি ও প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে।
প্রতিদিন হাসপাতালের আউট ডোরে যে সব চিকিৎসক রোগী দেখেন তাদের কক্ষের সামনে দালালরা উপস্থিত হয়ে রোগীদের হয়রানি ও প্রতারণার ফাদে ফেলে। হাসপাতালে নিয়মিত পুলিশ টহল এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলে দালালদের দৌরত্ম অনেকটা রোধ পাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রসঙ্গে বলেন, আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি ১৬৪৬ হেক্টর, অর্জন ১৬৫৬ হেক্টর। আমন আবাদ পরিস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা ২৪৭১৭ হেক্টার, অর্জন ৮৭০ হেক্টর। সারের মূল্য ও বিতরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
বর্তমানে ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে ২০৯৮ মে:টন, টিএসপি সার মজুত রয়েছে ২৩৫ মে:টন, এমওপি সার মজুত রয়েছে ১৬৬ মে:টন এবং ডিএপি সার মজুত রয়েছে ১২৬ মে:টট। হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আপাতত কোনো সমস্য নেই।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ প্রসঙ্গে বলেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জুলাই মাসে চাঁদপুর জেলার সার্বিক কাজের মান সন্তোষ জনক। জুলাই মাসে ২৪ জন পুরুষ ও ১৪৪ জন মহিলা স্থায়ী পদ্ধতি, ২৩৯ জন আইইউডি এবং ৫৯৯ জন ইমপ্ল্যান ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
গণপূর্ত বিভাগ প্রসঙ্গে বলেন, মেরিন একাডেমীর অবকাঠামোগত কাজ ৯৫ভাগ শেষ হয়েছে। মতলব দক্ষিণ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস ভবন নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস নির্মাণের প্রাক্কলন প্রস্তুতি কাজ চলমান রয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার আলুর বাজার ও মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ প্রসঙ্গে বলেন, চাঁদপুর সড়ক বিভাগের রাস্তাগুলো সংস্কার/মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।
গৌরিপুর-কচুয়া-হাজীগঞ্জ সগকের যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি একনেক কর্তৃক এবং দোয়াভাঙ্গা-শাহরাস্তি-পানিওয়ালা (রামগঞ্জ) যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ শীর্ষক প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রসঙ্গে বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মোট ২৯৯৪৯.০৪ লাখ টাকা ব্যায়ে ৩৩০ টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ৩০৫টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, যা প্রায় ৪৬ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রসঙ্গে বলেন, ১৯০৭৭.০৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদী ভাঙ্গন হতে চাঁদপুর জেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকা এবং চরভৈরবী এলাকার কাটাখাল বাজার রক্ষার কাজে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের একনেক সভায় অনুমোদন লাভ করে। প্রকল্পটি জুলাই ২০১৭ হতে শুরু করে জুন ২০২০ এর মধ্যে শেষ হবে।
মেঘনা-ধনাগোদা পাওর ভিভাগ প্রসঙ্গে বলেন, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলাধীন ষাটনল ইউনিয়নের মলোপাড়া গ্রামকে মেঘনা নদীর ডেউ এর ভাঙ্গন হতে রক্ষার্থে প্রতিরক্ষামূলক কাজে ৪০৭.২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যার বাস্তব অগ্রগতি ৯৫ ভাগ।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রসঙ্গে বলেন, জেলার ৮টি উপজেলায় ৯টি প্রকল্পের আওতায় ৭৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫৪২৩.৭৫ লাখ টাকার কাজ চলমান রয়েছে। যা প্রত্যেকটি ৬৪ ভাগের উপরে রয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিস প্রসঙ্গে বলেন, চাঁদপুর জেলায় আইসিটি সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০৫টি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম সক্রিয় রয়েছে ৪৬৭টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সংখ্যা ৫৮টি। সার্বিক কাজের মান সন্তোষজনক।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস প্রসঙ্গে বলেন, জেলার ২৬টি গুদামে বর্তমানে মোট ১১১৯০.৭৩১ মে.টন চাল, ১৮৩৮.৮৯৪ মে.টন গম মজুদ রয়েছে। জুলাই মাসে বিভিন্ন খাতে ৪৯.৬২১ মে.টন চাল ও ২৫১.২২৪ মে.টন গম বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস প্রসঙ্গে বলেন, জুলাই মাসে ৬১৯২টি গবাদি প্রাণি এবং ৩৩৬৮০০টি হাঁস-মুরগীকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। ৭৬৮৫টি গবাদি প্রাণি এবং ১১৬৩৩৭টি হাঁস-মুরগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হগয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রসঙ্গে বলেন, জুলাই মাসে ১০টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ৩৩লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির পিপিএম, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ এস এম দেলওয়ার হোসেন, ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল আজিম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আলী আহমেদ, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মুজিবুর রহমান, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইলয়াছ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান,
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম ইকবাল, জেল সুপার মো. মাইন উদ্দিন, জেলা তথ্য অফিসার নুরুল হক, জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এন এম রেজাউল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বডুয়া,শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা আফরোজ,
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোখলেছুর রহমান, যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক সামসুজ্জামান খান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদসহ স্থানীয় সকল দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD