বাকস্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না: শাহদীন মালিক

বাকস্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না: শাহদীন মালিক

ফাতেমা আক্তার রানী

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর আর বাকস্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। মাইক নিয়ে কথা বললে হয়তো বাকস্বাধীনতা থাকবে। তবে সমস্যা হবে মিডিয়া যদি কম্পিউটার ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ করে, তাহলে কী কনসিকোয়েন্স হবে?
শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শাহদীন মালিক।

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ আশঙ্কায় মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা কো-অর্ডিনেট করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।

শাহদীন মালিক বলেন, আমার ভীষণ রাগ এজন্য যে, সাংবাদিকরা পুরো আইনটাকে ৩২ ধারার মধ্যে নিয়ে গেলো। আমার দৃষ্টিতে ৩২ ধারাটা তুলনামূলকভাবে কম বিপদজনক ধারা। এই আইনে যে আরও ভয়াবহ দিকগুলি আছে সে সম্পর্কে আমাদের দৃস্টি সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্রের কথা যদি টানি, সবাই নিশ্চয়ই এক বাক্যে বলবেন যে, আমেরিকা তো অনেক উন্নত দেশ, তাদের সাথে তুলনা করলে ঠিক হবে না। কিন্তু আমরা ১৭৯১ সালের আমেরিকার সমকক্ষ কি হতে পারবো না? সোয়া দুইশো বছর আগের আমেরিকার গণতন্ত্রের অবস্থায় যেতে আমাদের আরও কয়শো বছর লাগবে? ১৭৯১ সালে আমেরিকান সংবিধানে বলা হলো- বাকস্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এমন কোনো আইন কংগ্রেস প্রণয়ন করতে পারবে না। বাকস্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এমন কোনো আইন কংগ্রেস প্রণয়ন করবে না, শেষ। এটা বলা যাবে, ওটা বলা যাবে না, এটা বললে দেশের অখণ্ডতা-সহিংসতা কী কী অনেক কিছু আছে না… এগুলি ওরা সোয়া দুইশো বছর আগে বলে গেল।

শাহদীন মালিক আরো বলেন, “আমাদের হলো কি কিছু বললেই সেটা অপরাধ হবে। এই আইন এখন পাস হয়ে গেছে। এই আইনের ছোট একটি দিক আছে। কম্পিউটার সিস্টেমে যেটাকে হ্যাকিং বলে। কম্পিউটারে ঢুকে ডাটাবেজ ব্যবহার করা বা ইনফরমেশন নিয়ে সেটা অপরাধের জন্য ব্যবহার করা। এ সংক্রান্ত একটা আইনের দরকার ছিল। কম্পিউটার সিস্টেমে অনধিকার অনুপ্রবেশ করে কম্পিউটার সিস্টেমে গচ্ছিত রাখা ডাটা কপি করে নিয়ে ওটা অপব্যবহার করবে বা আমার কম্পিউটারে ঢুকে আমি যাতে কম্পিউটারের ওই যে ভাইরাসের ব্যাপার… এগুলি সংক্রান্ত একটা আইনের দরকার ছিল এবং এই আইনেও ওই সংক্রান্ত কিছু ধারা আছে, যেটার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।

কিন্তু এর সাথে সব ধরনের কথা বলাটা কেমন করে এর মধ্যে চলে আসলো? সেটার সাথে কম্পিউটার হ্যাকিং, সেটার আইনের সাথে যে এই বাকস্বাধীনতার সবগুলি চলে আসলো। এটা বলা যাবে না, এটা করা যাবে না, এটা অবভিয়াসলি অন্য উদ্দেশ্য আছে। কম্পিউটার সংক্রান্ত যে অপরাধ, ওইগুলির শাস্তির ব্যবস্থা না করার সাথে আমার মনে হয় বড় উদ্দেশ্যটা ছিল- কথা বলাটা বন্ধ করা। এটা নিয়ে যত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, আমার যেটা রাগ, পুরো আলোচনাটা ৩২ ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে!”

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD