করোনার প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের খেটে খাওয়া মানুষেরা

করোনার প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের খেটে খাওয়া মানুষেরা

মেহেরপুর প্রতিনিধি

করোনার ভাইরাসের প্রভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মেহেরপুর জেলার শ্রমজীবী মানুষেরা। তাই বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুরেও চলছে অঘোষিক লকডাউন। আর এতেই ভোগ্যপণ্য ব্যতিত সকল দোকানপাটের পাশাপাশি বাসচলাচলও বন্ধ রয়েছে। যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় খাবার সংকটে শ্রমজীবি মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

কয়েকজন দিনমুজুর জানান, সকল কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। ঘরে কোনো খাবার না থাকায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে। তাই অনেক খরচ। সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি। দিনের বেশিরভাগ সময় অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছি। এভাবে চলতে থাকলে খাদ্য সংকটে মরতে হবে।

গাংনী বাজারের কয়েকজন পাখিভ্যান ও অটোভ্যান চালক জানান, আগে ৫/৭শ’ টাকা রোজকার হলেও করোনার প্রভাবে রাস্তাঘাটে মানুষ চলাচল না করায় রোজগার শুন্যে’র কোটায়। যদি সব কিছু বন্ধ হয়ে যায় কী খাবো, সংসার কিভাবে চালাবো ভাবতে পারছি না। কোনো জমানো টাকাও নেই যে তাই দিয়ে চলবো।

হোটেল শ্রমিকরা জানান, করোনার প্রভাবে হোটেল বন্ধ করে আমাদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। তাই এখন ঘরে বসে আছি। জানিনা এখন কি করবো। আমরা গরীব মানুষ কিছু না করলে খাবো কি।

বাস ও ট্রাক শ্রমিকরা জানান, যানবাহন চলাচল না করায় বেশিরভাগ শ্রমিককে ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

চা দোকানিরা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের চায়ের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দোকান খুলতে না পারার কারণে সংসার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম জানান, সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা চলমান রয়েছে।

গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক বলেন, শ্রমজীবি মানুষ সমস্যায় আছে এটা সত্যি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ২ হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছি।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো: আতাউল গনী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কার্ডধারীদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে ও ভিজিডি ভিজিএফ চাল বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, ‘করোনার দুর্যোগে অসহায় মানুষগুলোর পাশে রয়েছে সরকার। ইতো ধ্যে সরকার ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। সরকার প্রয়োজনে আরো বরাদ্দ দেবে। দু-এক দিনের মধ্যে জনসমাগম এড়াতে খুদ্র ব্যবসায়ী, অটোবাইক, পাখিভ্যান ও দোকান শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD