কমিটমেন্ট পথচলা –পর্ব-০১ রাজিিব

কমিটমেন্ট পথচলা –পর্ব-০১ রাজিিব

নিউজ ডেক্স

“মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে,মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই”
#বাঁচার আর্তি কবিগুরু ও করেছেন।নশ্বর পৃথিবী! বাঁচা বড়জোর ৭০-৮০ বছর!দেখতে দেখতে কখন যে–দুরন্ত শৈশব পেরিয়ে ভর বার্ধক্য জেঁকে বসে আমরা টের ও পাইনা।যাঁরা ধনে-জনে সৌভাগ্যবান!তাঁরা-ই অন্যদের তুলনায় একটু সহানুভূতি, সন্মানে থাকেন।অন্যরা?কোনভাবে মৃত্যুঞ্জয় সেজে “মাঝে–মাঝে বিড়বিড় করে চোখের কোনে লেগে থাকা সাদা ময়লা মাড়িয়ে গড়িয়ে পড়া কান্নাখেকো জলে গান ধরেন–
“দয়াল দিন তো গেলো,সন্ধ্যা হলো,পার করো আমারে”।
সবাই মরতে হবে আমাদের!কেউ আগে কেউ বা পরে।
#কিন্তু আমি-তুমি-সে কেউ কি মরতে চাই?না মোটে ও না!কারো এখনো জীবনের সংজ্ঞা জানা– হয়নি!পৃথিবীর রূপ দেখা,অর্থ-বিত্ত,প্রাচুর্য, যশ,ভোগ এখনো অনেকদুর বাকী!সিজোফ্রেনিয়া রোগী,প্রতারিত প্রেম বিরহে কাতর জীবন থেকে পালানো প্রেমিক,রোগ যন্ত্রনা কাতর মৃত্যু পথযাত্রী ও এখন মৃত্যু কামনা করেন না।সবার একটা রোগের ভয়/আতংক জেঁকে বসেছে-“করোনাভাইরাস “?কেউ বলেন–পাপাচার বিশ্ব,প্রকৃতির প্রতিশোধ,পৃথিবীর ব্যালেন্স,প্রতি শতবর্ষ পরে প্লেটের পরিবর্তনের ফলে এ অবস্হা! এ কারনেপূর্বে ও একাধিক সমৃদ্ধ সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে। আবার কেউ বলেন,”করোনাভাইরাস”আমার হবেনা,অমুক-তমুকের হবে।আরো কত কি?
#ওরে বাবা!এমন মৃত্যু! কেউ পাশে থাকেনা!চিকিৎসা নেই!এমনকি সৎকারে আত্মজা/আপনজন পাশে থাকেনা।এ ধারনা চিন্তা— এখন সবারে জেঁকে বসেছে!আসলে কি তাই?এ পৃথিবীতে মড়ক রোগ কি প্রথম?একটু পিছনে ফেরা যাক–
#বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা WHO এর তথ্যমতে জানা যায়(২০১১–২০১৭)এ সাতবছরে বিশ্বব্যাপী ১৩০৭ টি মহামারী’র মতো ঘটনা ঘটেছে।
# থুকিডাইডিসের রচনা থেকে আমরা জানি,পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ যখন সংঘটিত হয়েছিলো গ্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে,তখন টাইফাস মহামারি’তে এথেন্সের জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।যার কারনে স্পার্টার জয়লাভ সম্ভব হয়েছিল।
# দুনিয়ার বাতিঘর নামে পরিচিত রোম ১৬৫ খ্রি: থেকে ১৮০ খ্রি: সেই রোম মাত্র ১৫ বছরে জনমানবশূন্য হয়ে যায় গুটি বসন্তের কারনে।সে সময় রোমকে বলা হত ভূতের নগরী।
# খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০ এ গ্রিসের ফুসফুস নামে খ্যাত এথেন্সে বসন্ত রোগে ৩০ হাজারের ও বেশি মানুষ মারা যায়।
# ২৫০ খ্রি: সাইপ্রিয়ানের প্লেগ মহামারি রোমান সম্রাজ্যকে বিপর্যস্ত করে দেয়।পরবর্তী দুই শতাব্দীতে বিউবনিক প্লেগে প্রায় ১০ কোটী মানুষ মারা যায়।এই রোগ মধ্যপ্রাচ্য এশিয়া ও ভূ-মধ্যসাগরীয় এলাকায় ছড়ায়।যা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারী বলা হয় একে।মানুষের মরা পচা দুর্গন্ধ বাতাস দূষিত হয়। এমনকি পশুপাখি কীট পতঙ্গ সব মারা যায়।
# ১৮২০ খ্রি: শুধুমাত্র ভারত ও পূর্ব এশিয়া’তে কলেরা রোগে মারা যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ।
# ১৮৬০ খ্রি:আধুনিক যুগে ও প্লেগ ছড়ায়, এতে চীন,ভারত ও হংকং মিলে ১ কোটি ২০ লাখের ও বেশি লোক প্রান হারায়।
# ১৯২০ সালে বসন্ত রোগে মারা যায় পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৫ কোটী মানুষ।
# ১৯৭৬খ্রি:পশ্চিম অাফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিস্কৃত হয়।
#২০১২ খ্রি:সৌদি আরবে “সার্স “ভাইরাস সংক্রমন ঘটে।আক্রান্তদের ৩৫ শতাংশ মারা যায়।যা উটের মাধ্যমে সংক্রমন ঘটে।
# ২০১৯ খ্রি:হালনাগাদ চীনের উহান শহরে নোভেল করোনাভাইরাস ঘিরে ক্রমেই ছড়াচ্ছে অাতংক।এখন বিশ্বময় প্রযুক্তি উৎকর্ষতায় হালনাগাদ তথ্য পাচ্ছি।খ্রিষ্টপূর্ব -পরে পৃথিবীতে অনেক অজ্ঞাত ভাইরাস/মড়ক রোগে সমৃদ্ধ নগর সভ্যতা হারিয়ে গেছে—- তা এখনো অনেক অজানা।
#সভ্যতার ঊষালগন হতে মড়ক রোগের সংক্রমন হয়েছে,ভাঙ্গা-গড়া রীতি নীতি’তে পৃথিবীর সভ্যতা প্রকটিত হয়েছে।বিভিন্ন ভয়াবহ মড়ক রোগের প্রতিষেধক /টীকা আবিস্কৃত হয়েছে।এ করোনাভাইরাস মড়ক রোগের প্রতিষেধক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যানে অচিরে হয়তোবা পাবো?
# কিন্তুআজ বিশ্বময় আমাদের ও প্রজন্মান্তর অনেক অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।বিশ্বময় এতোদিন আমাদের একমাত্র চরম উদ্দেশ্য ছিলো-অমানবীয়-দানবীয় চিন্তাতে নিমগ্ন! শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দানবীয় চিন্তাতে ব্যক্তি,পরিবার, সমাজ,দেশ,মহাদেশ কেন্দ্রিক অশুভ প্রতিযোগিতা।দানবীয় নিউক্লিয়ার,জৈব,রাসায়নিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা!!কার ভান্ডারে কতো পারমাণবিক, বিষাক্ত জৈব, রাসায়নিক মজুত, মহাকাশে যুদ্ধ চিন্তাতে নতুন নতুন প্রজেক্ট!! অন্য গ্রহরাজ হয়ে দৈত্যারি করা,সমৃদ্ধি চিন্তা–সেকেন্ড হোম, জৈব প্রজেক্ট!আরো কত কি?
# আমাদের আসলে পৃথিবীজুড়ে কোনো সমষ্যা নেই।সমষ্যা হলো আমরা মানুষ নামে’র অমানুষগুলো’র!!চিন্তার রাজ্যে আমরা ত্যাগী হতে পারিনি!হয়েছি দিনে দিনে প্রচন্ড রকমের হিংসুটে ভোগী।ভোগ চিন্তায় চরম স্বার্থপর দুর্নমিত হয়ে “ইকো সিষ্টেম “বদলে ফেলে প্রকৃতি’কে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে খাদ্য,আবাস,জল,স্হল,বন -বাদাড় অন্তরীক্ষ এমন কি একান্ত মুহুর্ত্য গুলো পর্যন্ত বিশ্রীভাবে বানিজ্যিক ভবনায় প্রোডাক্ট করছি। আমরা কথিত মহাপন্ডিত হয়ে গুলিয়ে ফেলছি প্রকৃতি মানবীয় সৃংখল! পৃথিবী জুড়ে নেই কোনো জবাবদিহিতা! জোর যার মুলুক তার! এখন সত্যি বলতে কি!”আমি মানুষ বলতে নিজের প্রতি ঘৃনা আসে”।
# ধর্ম নিয়ে স্পর্শ কাতর বিষয়ে আমি লিখিনা!পৃথিবীতে এখন ক্রমেই” মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,নহে কিছু মহীয়ান “চিন্তাগুলো মরে যাচ্ছে।প্রচন্ড ঘৃনা,বিদ্বেষ নিয়ে ঘুমন্ত সাম্প্রদায়িক দৈত্যকুল
সরব হচ্ছে।দুর্বাসা জীবনবোধ আমাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।সৃষ্টি’র সেরা জীবের পরিচয় এখন ধর্মের বিভাজনে ছিন্নবিচ্ছিন্ন!মানুষ পরিচয়ে বাঁচা মানুষগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীজোড়া।

# এখন আমাদের করোনাভাইরাস ক্রাইসিস মোকাবেলা এখন জাতীয় ইস্যু!মানবীয় সরকার দেশের আপামর জনগনকে বৈশ্বিক ঘরনার আবর্তে দক্ষ টেকসই মানব সম্পদে পরিনত করেছেন।আজ বিশ্বজুড়ে আমাদের মানবসম্পদ রেমিটেন্স যোদ্ধাদল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’তে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখে চলেছেন।
# আপামর জনগনের রাষ্ট্রের প্রতি কমিটমেন্ট থাকে,সে কমিটমেন্ট চিন্তা–ও হৃদয়ে লালন করে দেশপ্রেম, সততার কান্ডারী হয়ে দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান,আজ আমাদের প্রকৃত কমিটমেন্ট কান্ডারী সংখ্যা অনেক কম।ব্যক্তিগত লাভ চিন্তা এখনো মজ্জাগত! আজ করোনাভাইরাস ক্রাইসিস মোকাবেলায় সর্বাগ্রে নিজের রেশন,বেতন দিয়ে ও রাতদিন দেশময় জনগনকে সচেতন করে এসেছেন,বাংলাদেশ পুলিশ।

# রাষ্ট্র ও জনগনের প্রতি কমিটমেন্ট অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে জনবান্ধব বাংলাদেশ পুলিশ।মহান স্বাধীনতার স্হপতি জাতির জনক’র ডাকে সাড়া দিয়ে পরিবার,পরিজনের মায়া ত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ’কে শত্রুমুক্ত করেছে। আজ বিশ্বময় করোনাভাইরাস সংকট নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র দেয়া ৩১ দফা নির্দেশনা পেয়ে কাজ করে চলেছেন বাংলাদেশ পুলিশ।
#কমিটমেন্ট ভরপুর জীবন আমাদের,পরিবার- প্রিয়জন,কর্মক্ষেত্র, সমাজ,রাষ্ট্র, ও বিশ্ব।জীবন চলার পথ মানেই কমিটমেন্ট!শুধু ধরনে ভিন্নতা।প্রজাতন্ত্রের পেশাজীবিদের চলার পথে সর্বাগ্রে জনকল্যানমুখীতা,বিজ্ঞান ভিত্তিক সু-সৃংখল জ্ঞান ও তত্ত্ব, পেশাগত কর্তৃত্ব, সামাজিক স্বীকৃতি ও নৈতিক মানদন্ড বজায় রাখতে সমাজবিজ্ঞানী” Warner boehm” মত প্রকাশ করেছেন।
#আজ দেশে জনকল্যানমুখী /জনবান্ধব পেশাদারিত্ব কমিটমেন্ট নিয়ে মানবীয় বহুমাত্রিক কাজে জনকল্যান নিশ্চিত করতে শতভাগ সততা ও অান্তরিক হয়ে কাজ করে চলেছেন– পুলিশ সুপার,গাজীপুর, জনাব,শামসুন্নাহার পিপিএম।করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গাজীপুর জেলা পুলিশের মানবীয় কমিটমেন্ট ও সচেতনতা এখন সবার জন্যে অনুকরণীয়।ঘরে,বাইরে,হাটবাজার, গার্মেন্টস, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবি সম্মিলিত বলয় তৈরী করে প্রতিরোধে পথচলা।জনকল্যান নিশ্চিত করতে নিজের রেশন নিয়ে কোন ফটোসেশন বা প্রচার ছাড়া প্রয়োজন মতো সামাজিক সন্মান /মর্যাদা সমুন্নত রেখে বিলিয়ে দিচ্ছেন ঘরে ঘরে।তাঁর-মানবীয় জনবান্ধব সচেতন আচরণ আজ করোনাভাইরাস সংকটময় সময় “ভয় “জয় করে প্রতিরোধ শপথে— জনকল্যান কমিটমেন্ট নিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকদুর।

রাজীব কুমার দাশ
লেখক ও কবি
পুলিশ পরিদর্শক,বাংলাদেশ পুলিশ।
GMail-rajibkumarvandari800 @gmail.com.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD