কোনদিকে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম?- ইয়াছমিন আক্তার

কোনদিকে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম?- ইয়াছমিন আক্তার

চাঁদপুর প্রতিনিধি

আজকাল মানুষের মন খুব অস্থির থাকে। নিজেরা নিজেদের সময় দেয় না। কোন বিষয় নিয়ে নিবিড়ভাবে ভাবতে পারে না। ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন মনে করে না। অন্যের কথায় প্রভাবিত হওয়ার ব্যাধী রয়েছে মানুষের মধ্যে। যে যা বলে তাই বিশ্বাস করে। আর সেই অনুযায়ী পথ চলে। অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত অন্যের কথায় নিয়ে নেয়। নিজের বুদ্ধিকে অচল করে রাখে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় পৃথিবীতে যত খারাপ মানুষ আছে তারা খারাপ হয়েছে অন্যের প্ররোচনায়। অন্য কারো উসকানিতে মানুষ অতি সহজে অতি জঘন্য কাজটি করে ফেলতে পারে। কোন মানুষ শুধুমাত্র নিজের বুদ্ধিতে একা একা কোন জঘন্য অন্যায় করতে পারেনা। মানুষ নিজের বুদ্ধিতে নয়, অন্যের বুদ্ধিতে পরিচালিত হতে বেশি পছন্দ করে। কেউ উপলব্ধি করে না, প্রত্যেকের মধ্যে মহান রাব্বুল আলামিন ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সাদা-কালো বোঝার জন্য যথেষ্ট জ্ঞান দিয়েছেন। এগুলোর জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাগে না, আল্লাহর দেয়া জ্ঞানই যথেষ্ট। সেই জ্ঞান আমরা আল্লাহর রাসুলের প্রকৃত আদর্শ থেকে পাই। যুগে যুগে আল্লাহ নবী-রাসুলদের মাধ্যমে তাওহীদ ভিত্তিক সত্যদীন অর্থাৎ সঠিক পথ পাঠিয়েছেন।
যাতে আল্লাহর বান্দারা ভুল পথে না যায়, কোন অন্যায় অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে। পৃথিবীতে মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
.
১৪০০ বছর আগে যখন রাসুলুল্লাহ(সাঃ) মক্কায় এসেছিলেন তখন আরব সমাজ অন্যায়-অশান্তি আর জুলুম নির্যাতনে টইটুম্বুর ছিল। যাকে বলা হয় জাহেলিয়াতের যুগ। এই অন্ধকার অসভ্য মানুষগুলোকে কী করে কিসের ভিত্তিতে আলোকিত করেছিল? সকল প্রকার অন্যায়-অশান্তি দূর করে ন্যায় সুবিচার এক কথায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল? তখন তো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিলনা। যদিও অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে অক্লান্ত সংগ্রাম করতে হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহর রাসুলের হাতে গড়া উম্মতে মোহাম্মদী জাতি অর্ধ দুনিয়ায় আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করলেন, কিসের বলে? কেউ তো বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় বড় ডিগ্রী লাভ করেন নি। এক কথায় আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান দিয়ে। আল্লাহর তওহীদ ভিত্তিক প্রকৃত আদর্শকে ধারণ করে নিজেরা হয়েছেন মহাজ্ঞানী, প্রকৃত আলেম। আজকের দিনে তা সম্পূর্ণ বিপরীত। অগণিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। বড় বড় ডিগ্রিধারী লোকের অভাব নেই। মুফতি নামধারী আলেমের অভাব নেই। কিন্তু এত বড় বড় ডিগ্রী লাভ করে পৃথিবীর কোথাও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। সমাজ তো দূরে থাক নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যেই তো শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি। নিজেদের পরিবারের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করতে পারে নি। বরং যে যত বড় ডিগ্রিধারী সে ততো বড় স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক, দুর্নীতিবাজ।
.
যে জ্ঞান মানুষের কল্যাণে কাজে লাগেনা তা অর্থহীন, মূল্যহীন। এই সমাজে এখনও দেখা যায় যারা প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জন করতে পারেনি, তারাই মূলত পরিশুদ্ধ রয়েছে। তাদের মধ্যেই দেখা যায় সরলতা, উদারতা, মায়া-মমতা আর ঐক্যের সুন্দর চিত্র। কিন্তু সমাজের কতিপয় পণ্ডিতরা এই সরলমনা মানুষদের মূর্খ জ্ঞান করে। মানুষের মধ্যে যেহেতু আল্লাহর রূহ রয়েছে, সেহেতু অনেক খারাপের মধ্যেও মানুষ কিছু ভালো স্বপ্ন দেখে। যেমন বাবা-মা যতই খারাপ হোক তাদের স্বপ্ন ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবে। সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করবে। এই ভেবে নিজের অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠায় আদরের সন্তানদের। আফসোস কিছুদিন পর খবর পায় তাদের সন্তান ধর্ষণ, মাদক, সন্ত্রাস, খুনসহ নানা অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে।কিছু সন্তান উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অমানবিক আচরণ দেখায়, বাবা-মাকে পাঠায় বৃদ্ধাশ্রমে। তখন মা-বাবার কি পরিস্থিতি হয়?
.
আর মধ্যবিত্তরাও স্বপ্ন দেখে কিন্তু বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াবার ক্ষমতা তাদের থাকে না। তারা অধিকাংশই সন্তানদের সৎ, ভালো মানুষ হওয়ার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করান। কিছুদিন পর ছেলে মেয়েরা আর মাদ্রাসায় যেতে চায় না। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা যায় মাদ্রাসার ধর্মব্যবসায়ী ধর্মগুরুরা ছোট ছোট বাচ্চাদের ব্যবহার করে। জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে, আল্লাহর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ বলাৎকার করে নিয়মিত। কিছু কিছু বাবা-মার ভাগ্যে জোটে সন্তানের লাশ। ছেলে ধরা, কল্লা কাটা গুজব রটিয়ে তাদের হত্যা করা হয় নিজেদের কুৎসিত চরিত্র ফাঁস হওয়া ভয়ে। আজকালকার মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে নিজের লাভের জন্য। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন সম্পদ উৎসর্গ করার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে দেয়া হয় না। আমরা এমন একটা সিস্টেমের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছি, যেখানে মানুষের জীবন পরিচালনার পদ্ধতিটাই ভুল। প্রতিটা ছোট-বড় বিষয়ে বিকৃত মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। সময় এসেছে নিজের জ্ঞানকে কল্যাণমূলক কাজে লাগানোর। সময় এসেছে তওহীদ ভিত্তিক প্রকৃত সত্যদীনকে ধারণ করে প্রকৃত ধার্মিক হওয়ার। আসুন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আল্লাহর হুকুম-বিধান অনুযায়ী আল্লাহর রাসুলের আদর্শ শিক্ষা দিয়ে মানুষের মত মানুষ করার সিদ্ধান্ত নিই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD