#স্ব-বিরোধী আচরনে মনুষ্যত্ব যখন দিগম্বর- রাজিব

#স্ব-বিরোধী আচরনে মনুষ্যত্ব যখন দিগম্বর- রাজিব

তানজিলা ইসলাম গাজীপুর

#গানের প্রথম কলি দিয়ে শুরু করি-“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”এখানে গানে লোকগীতি-বাউল-ভাটিয়ালি গানের কিংবদন্তি উস্তাদ শাহ আবদুল করিম আক্ষেপ করে বর্তমান সমাজব্যবস্থা – আমাদের মনের দৈন্যদশা -সরব-নীরবে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প কে দায়ি করেছেন।গানটি হিট হয়েছে
তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সবাই গেয়ে থাকেন।হিট গান!গায়ক-যন্ত্রীদের তাল-লয়ের দুর্দান্ত বাদন!তালি-শিস-তুড়িতে শ্রোতা একাকার।গান শেষ তো সবি শেষ! শ্রোতা-দর্শক কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়না।দর্শক-স্রোতা প্রতিক্রিয়ায়- “শিল্পী বেশ গেয়ে জমিয়েছেন “।সেরেফ এটুকু পর্যন্ত!গানটি শুনে কতোজন হৃদয়ে ধারন করেন–“এ পর্যন্ত কোনো গবেষণাধর্মী পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি”।

#প্রত্যেক প্রাণীরই আচরণগত বৈশিষ্ট্য আছে।মানু্ষ -মানুষের মতো,সাপ-সাপের মতো,বাঘ-বাঘের মতো।সব প্রাণী তাদের আচরণ এ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছে।একমাত্র মনুষ্য প্রজাতি ধরে রাখতে পারেনি!এঁনাদের মন কখন কি বলে?একমাত্র উনিই জানেন -বোঝেন!এ প্রজাতির কাছে সত্য-মিথ্যা নিরুপনের মেশিন ও বিকল হয়ে যায় বারে-বার।এ মানব প্রজাতি করতে পারেন না!এমন কোনো কাজ নেই।ভাবতে পারেন না!এমন কোনো ভাবনা নেই।এ প্রজাতি কখনো মিছরির ছুরি-আলুর দোষ-ধর্মে ও আছি জিরাফে ও আছি। খেয়ে-দেয়ে বেঁচে আছি! এ দুর্বোধ্য রহস্যঘেরা জটিল মানব প্রজাতির স্বরুপ উন্মোচন করতে গিয়ে অনেক নৃ্-বিজ্ঞানী,চিকিৎসক,মনোবিজ্ঞানী, কবি,সাহিত্যিক আবেগ-বেগের সম্মোহক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে পৃথিবী ছেড়েছেন। কিন্তু কোনো কুলকিনারা করতে পারেননি!সত্যি বলতে কোনো দ্বিধা নেই;আমি নিজেই এ প্রজাতিভুক্ত হয়ে সব -সময়ে ভয়ে থাকি।কখন-কোথায়-কিভাবে এ প্রজাতি হতে নিরাপদ থাকবো?সে চিন্তাতে বিভোর থাকি।আমি এখন এ্যানাকোন্ডা-বাঘ-সিংহ-হিংস্র শ্বাপদ কে ভয় পাইনা,ভয় পাই স্বগোত্রের এ প্রজাতিকে।এ প্রজাতি পোষ মানেনা,কৃতজ্ঞ হয়না,বিশ্বাসী হয়না,সেকেন্ড-সেকেন্ড গিরগিটির মতো সব পাল্টিয়ে নেয়।

#চরম আদর্শবান পাবলিক ফিগার,মোটিভেশনাল স্পিকার যখন উত্তরাধিকার নারীবাদ-মাক্সীয় নারীবাদ-পরিবেশ নারীবাদ-নারীবাদী যৌনযুদ্ধ সামলিয়ে গলার রগ ফুলিয়ে
বুক চিতিয়ে তর্জনী উঁচিয়ে নারীদের জন্যে এ বুঝি কিছু একটা করতে যাচ্ছেন! রাতের নিশিকুটম্ব হয়ে- ঢেঁকুর- মদের প্যাক -হাই তুলে বউ পিটিয়ে নারীবাদ চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করে নতুন আদর্শের বুলি আওড়িয়ে চলেন।আদর্শ বাবা-সন্তানের পাঠে-“মিথ্যা বলা মহাপাপ”জ্ঞানের বাতি জ্বালিয়ে মোবাইলে নিষ্পাপ সন্তানের বুলিতে”বাবা তো বাড়ি নেই” বলিয়ে সন্তানের আদর্শ বাবার বারোটা বাজিয়ে দেন।

#অগুনিত যুবতী-কিশোরী-কুলবধুর সর্বনাশ ঘটিয়ে অক্ষতযোনি পাত্রী খোঁজা চরম পুরুষবেশ্যা যখন-হবু স্ত্রীর জৈব অর্গান কল্পনায় হা-পিত্যেস করেন! “তবুও আমি সতী পাত্রী” গুন-গুন করে গান ধরেন-“মন দিয়া তোর মন পাইলাম না,দু:খ এই অন্তরে রে–আর- আমি মন দেবো কারে?” হবু অক্ষতযোনি পাত্রী ও ভন্ড প্রেমিক পুরুষবেশ্যা চেনেন।

#দেশের সরকারি -বে-সরকারী ফাষ্ট-সেকেন্ড-থার্ড-ফোর্থ ক্লাস সেবকগন জনকল্যান নিয়ে মাঠেঘাটে বন-বাদাড়ে কতো যে কষ্ট করেন!তা ভুক্তভোগীই জানেন!এঁনাদের হাসি-কাশি-ঝোল পাদ-ঠাস পাদ-ফুস পাদ কখন আসে! কখন যায়! কারো বোঝার সাধ্য নেই।জনগন না বোঝার আগেই এঁনারা বনে যান–রাজা-মহারাজার নাতি।শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি-ভায়রা-শ্যালকের দানে মাছ -সরিষা -শাক চাষের বাহারি কুম্ভিলক ছেলের হাতে মোয়া ভোলানো হিসেবে এঁনাদের কোটরাগত চোখ-গাল চর্বি প্রলেপে আস্তে আস্তে ভরে যায়।কোমড় শক্ত হয়ে স্টীলনেস স্টীল হয়ে টাং-টাং করে বাজে।ধরা-সরা জ্ঞানের তোয়াজ না করে দ্রুত গড়ে তোলে বহুমুখী বানিজ্যালয়।যুক্ত হয়ে পড়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেটে! এঁনারা এখন অফিস-চেম্বার করেন নিজের তাগিদে!অফিস-চেম্বার একান্ত ভাবনায় নিজের করে নেন। এঁনারা প্রজাতন্ত্রের চাকর/সেবক তা ভুলে কৃতঘ্ন হয়ে “যেখানে যেমন আমি হয়ে পড়ি তেমন”হয়ে সরবে ঠাস পাদ-ফুস পাদ না দিয়ে ঝোল পাদ দিতে থাকেন।

#বিশ্বজুড়ে করোনা অতিমারী সংকট
মোকাবেলা করে চলেছি।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিভিন্নভাবে এ অতিমারী সংকট মানবিকতা দিয়ে মোকাবেলা করে চলেছেন।সকল জনগনই প্রজাতন্ত্রের অংশিদার।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা সংকট মোকাবেলায় এতো -উপদেশ! মানবতার জয়গান!চোখে পড়ার মতো।যা রীতিমতো বিস্ময়কর!আবার লাশ দাফনে বাধা-করোনা রোগীদের ফেলে দেয়া,এমন কি! মাতা-পিতা -সন্তান -পরিজন’কে অমানবীয় আচরনে ছুঁড়ে ফেলা,একঘরে করা,ময়লা ছুঁড়ে করোনা রোগীদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া।

#সবাইকে একদিন মরতে হবে।করোনাসংকট নিয়েই আমাদের সামনের পথচলা। হা -পিত্যেশ করে কোনো সমাধান আসবেনা। সচেতনতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে
করোনা আক্রান্তরা সবাই আমাদের আপনজন।মানসিক প্রশান্তি-মানবীয় আচরণ রোগীদের বেশি প্রয়োজন।মানসিক প্রশান্তি-সমর্থন আমাদের আপনজন-প্রতিবেশি-সমাজে আক্রান্তদের দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।আমরা প্রায়শই স্ব-বিরোধী কাজ করি। উল্টো পথে হাঁটি।নিজেই উপদেশ দিই!পালন করিনা।এ মহামারি সংকটে আমাদের স্ব-বিরোধী ভাবনায় মনুষ্যত্ব যাতে দিগম্বর হয়ে পালিয়ে না যায়–মুষ্টিবদ্ধ ঐক্যের বাতাবরণ নিয়ে সবাইকে সামনে এগিয়ে এসে অমানবীয় দিগম্বর প্রথা বন্ধ করা জরুরী প্রয়োজন।

©রাজীব কুমার দাশ
ওসি ডিবি গাজীপুর বাংলাদেশ পুলিশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD