দন্তবলে তৃষ্ণামেটায় ঘোলা জলে – ইমাউল হক পিপিত্রম।

দন্তবলে তৃষ্ণামেটায় ঘোলা জলে – ইমাউল হক পিপিত্রম।

বিনোদন ডেক্স

রিক্সা এক্সিডেন্ট হলে সর্বোচ্চ দুই জন যাত্রী একজন প্যাডেলার নিহত হতে পারে। কিন্তু 100 গতি বেগে চলা হিনো লাক্সরি কোচ এক্সিডেন্ট হলে 42 জন যাত্রীর মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে যায়।

রিক্সাওয়ালার কাছে কেউ ক্ষতিপূরণ দাবি করে না। হিনো কোচের কাছে ক্ষতিপূরণের দশগুণ দাবি করে মামলা করতে দেখা যায়।

হাতি অনেক মূল্যবান। হাতি সহজে যার তার বাড়িতে ভ্রমণ করতে যায় না। গরিবের বাড়ি গেলে অকপটে বলেই ফেলে গরিবের বাড়ি হাতির পা।

হাতি ও বিপদে পড়ে। হিনো কোচেরর মত হাতিকেও নাকানি-চুবানি খেতে হয়। কারণ হাতি সবচেয়ে বৃহদাকার প্রাণী, বলবান, শীর্যবান শক্তিমান। হাতি অনেক প্রবাদ বাক্যের উদাহরণ। মরে গেলেও নাকি লাখ টাকা। এত বড় হাতিকে যে পোষ মানাতে পারে ,সে হাতির পিঠে ঘুরে বেড়ায়।

হাতির এসব গুণ অনেক সময় পাত্তা পায় না। হাতি একটি কাজ খারাপ করে। সেটা পানি ঘোলা করে খায়। এটি তার বদনাম। এটি মুখে মুখে। কিন্তু কেন এত বড় প্রাণী পরিষ্কার পানি খায় না। আসলেই কি সত্যি হাতি গোলা করে পানি খায়?

হাতি বড় প্রাণী হলেও আসলে পানি খাওয়ার কৌশলটা জানা নেই। বড় মাপের ক্ষমতাশালী লোকের অনেক সময় ছোট্ট একটি ভুল হয়। বীরদর্পে আত্মঅহংকারে সেটা বুঝতে চায় না । সে কাজ এক সময় করতে বাধ্য হয়। যে কাজটি তার করা উচিত বা প্রয়োজন সেটি কোন স্বার্থ ছাড়া করতে না চাওয়া হাতির জন্য বোকামির কাজ। বোকামির দন্ড হিসাবে হাতি এক সময় ওই কাজে বাধ্য হয়। একেই বলে হাতি পানি খায় ঘোলা করে।

আমাদের সমাজে অনেক হাতি আছে। কেউ না বুঝে চলতে চায় বোঝার মত করে। কেউ বুঝে ভান করে না বোঝার। নিজের স্বার্থ টাকে বড় করে দেখে অজ্ঞতা টা কে সামনে আনে। নিজের অযোগ্যতাকে না দেখে অন্যের যোগ্যতাকে দাঁবানোর উপায় হিসেবে উঠে পড়ে লাগে।

নিজের নাক কেটে বা প্রয়োজনে সম্মান বিক্রি করে অপরের বিরুদ্ধে মিছিল করে।যোগ্য তার সুড়ঙ্গ খুঁজে বেড়ায়। সব কিছু থাকলেও প্রশ্ন করে লাল সালুর মত “”তোমার দাঁড়ি কই মিয়া?””

আর আয়রে পায়রা দলে দলে হাতির বিরুদ্ধে হোককা টি টি মগর ভাই ,হাতি র পা কাদায় চাই।
অসতি জ্ঞান পাপী, চাচা, মামা, খালু, বস,পিওন সেকেন্ডেই “”এক দফা এক দাবি হাতি তুই কাদায় যাবি””।বলা সাড়া তো দেরী নেই ভাইরাল, পত্রিকায় পচে গন্ধ বের হতে দেরী হয় না।

স্ত্রী, পুত্র, সন্তান সবাই সমাজ চ্যুত, মান সম্মান, বংশ,মর্যাদা, অতীত, সাফল্য, সব কিছুই গায়েব। ৩ দিনে পচে শেষ।৯ দিনে নির্দোশ,কিন্তু ততদিনে ঘোলা জলে তৃষ্ণা বিসর্জন।

হুজুগে র উপর নির্ভর করে যোগ্যতা নাম,যশ ,খ্যাতি, সাফল্য, চরিত্র, বেড়ে ওঠা ,বড় থাকা ।সেখানে হাতি আর চামচিকার পার্থক্য দিয়ে কি শান্তনা?

হাতি এবং হাতি গুণের মানুষ, হাতির মতো জীবনযাপন থেকে যখন বিচ্যুত হয়। তখন তাকে যে কেউই ভৎসনা করে। হাতির মূল্যবান অবস্থা হই হই রই রই আকারে হাতের তালুতে হাততালি আকারে দৃশ্যমান হয়। শুধুমাত্র হাতির বিপদের দিনে উঠে আসে যে হাতি পানি ঘোলা করে খায়।

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে। সামনে হাতির মোষাহেবী করে পিছনে যে অপমানজনক কথা বলে। হাতির নিকট থেকে তারা সকল সুযোগ লুফে নেয়। হাতি যখন কাদায় পড়ে অনেক মানুষ হাতির পিঠে উঠে উৎসব করে। নাচগান করে। কানে সুড়সুড়ি দেয়।

তখন তো হাতি বাধ্য হয়ে ঘোলা জলে শূড় নামায়।
উপায় নেই গোলাম হোসেন সবার জীবনে আসে।
হাতি তখন তার স্বজনদের আসল চেহারা দেখতে পারে। কিন্তু তখন আর ডুবে যাওয়া কাদা থেকে উঠতে পারে না।
বাধ্য হয়ে ঘোলা জল পান করে। দন্তবলে তৃষ্ণা মেটায় ঘোলা জলে।

মোঃ ইমাউল হক পিপিএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD