ফরিদগঞ্জে চাচা-চাচীদের অত্যাচারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্মৃতি আক্তার

ফরিদগঞ্জে চাচা-চাচীদের অত্যাচারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্মৃতি আক্তার

বিশেষ প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জে আপন চাচা-চাচীদের অত্যাচারে জীবনের নীরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ৮ম শ্রেনী’র ছাত্রী স্মৃতি আক্তার। উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বাগপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ীর মৃত আঃ মালেকের কন্যা স্মৃতি আক্তার বাবা-মা, ভাই-বোন কে হারিয়ে চাচা-চাচীদের অত্যাচারে খালার কাছে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতায় আতংকে দিন কাটছে তার। গল্লাক নোয়ব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী স্মৃতি। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। ভাই প্রতিবন্ধী থাকায় পানিতে পড়ে মারা যায়, বড় বোন গত কিছুদিন পূর্বে স্বামীর বাড়ীতে আত্মহত্যা করে। এখন স্মৃতির চোখের সামনে শুধুই অতীত স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নেই। আপন বলতে খালাই আছে। তবুও বুকে সাহস নিয়ে লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় সে। তার নিজের কোন কথা বলতে গিয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সে।

স্মৃতির খালু নারিকেলতলা গ্রামের মোঃ আবু তাহের পাটওয়ারী ও মামা জাকির হোসেন জানান, স্মৃতির বাবা আঃ মালেক বিদেশে (কাতারে) থাকতেন। তার তিন ভাই কাশেম, কামাল, কালাম বাড়িতে থাকতেন। সেই সুযোগে আঃ মালেকের স্ত্রী’কে (স্মৃতির মা) বিভিন্ন অযুহাতে মানুষিক ও শারিরীক ভাবে নির্যাতন করতেন। এক সময় আঃ মালেক দেশে এসে ঢাকায় কারওয়ান বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। স্ত্রী ছেলে মেয়ে বাড়ীতে বসবাস করতো। ভাইদের প্রলোবনে আঃ মালেক’ও স্ত্রী’র সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। আঃ মালেকের এক ছেলে প্রতিবন্ধী পানিতে পড়ে মারা যায়। সেই মৃত্যু নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। একের পর এক মানুষিক যন্ত্রনায় আঃ মালেকের স্ত্রী রীনা আক্তার মানুষিক বিকারগ্রস্থ্য হয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে অনেক ঝড় ঝাপটার পর আঃ মালেক স্ত্রী’কে বিদায় করে আবার বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৮ সালের আঠার অক্টোবর আঃ মালেক মৃত্যুবরণ করেন। তার দুই মেয়ে প্রীতি ও স্মৃতির উপর নেমে আসে কাল বৈশাখী ঝড়। এক সময় ২য় স্ত্রীও স্বামীর সংসার চেড়ে ছলে যায়। চাচা-চাচীরাই তাদের একমাত্র আশ্রয় দাতা। কিন্তু চাচা-চাচীদের অত্যাচারে একে একে স্কুল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তারা। উপায় না দেখে তারা উভয়ই খালার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এক সময় খালা সামাজিক ভাবে প্রীতির বিয়ে দেয়। চাচাদেরকে অবহিত করলেও তারা তাদের কোন সহযোগীতা করতে আসেনি। এমনকি কখনো খোঁজও রাখেনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীর আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় স্বামীর সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করে প্রীতি।

কিন্তু প্রীতির মৃত্যুর পর তার চাচা-চাচীদের আবেগ অনুভুতি দেখে সবাই হতবাক। যে ভাতিজীর জীবর্দশায় চাচা-চাচীরা একদিনের জন্য একটু খোঁজও রাখেনি, তার মৃত্যুর পর এত আবেগ এত অনুভুতি। বড় বোন প্রীতির লাশের সামন থেকে ছোট বোন স্মৃতিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। সে চিৎকার চেচামেচী করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আঃ মালেকের ঢাকায় ২টি প্লাট, ৫ কাঠা জায়গা, বাড়ীর বিশাল সম্পদ সব কিছুই তাদের দখলে। এখন ছোট মেয়ে স্মৃতিকে তাদের কব্জায় নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পায়তারা করে আসছে।
স্মৃতির চাচা আবুল কাশের পাটওয়ারী জানান, তাদের বাবার মৃত্যুর পর আমাদের কাছেই থাকতো প্রীতি ও স্মৃতি আমাদের না জানিয়ে স্কুল থেকে তার খালার বাড়ীতে ছলে যায়, আমরা আনতে গেলেও তারা না আসায় আমরা আর খোঁজ খবর নেই নি।

স্মৃতি জানান, চাচা-চাচীরা আমাকে মারধুর করতো, ঠিক মতো খেতে দিতো না, পড়ালেখা করতে দিতো না, শুধু কাজ করাতো। তাই আমি স্কুল থেকে পালিয়ে খালার বাড়ীতে ছলে যাই। আমার একমাত্র বোন ছিল, সেও ছলে গেল, আমি এখন বড়ই একা, খালাই আমার সব, আমি কখনো চাচা-চাচীদের কাছে যাবো না। আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। এক প্রশ্নের জবাবে সে বলে, আমি শুনেছি আমার বাবার অনেক সম্পদ ছিল কিন্তু বর্তমানে কিভাবে আছে আমি কিছুই জানিনা।

আমি যদি সঠিক মালিক হয়ে থাকি একদিন ফিরে পাবোই। আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সহ সকলের সহযোগীতা কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD