স্ত্রীর অশোভন আচরন সহ্য করতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যা

স্ত্রীর অশোভন আচরন সহ্য করতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যা

হাসানুজ্জামানঃ

ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করা স্ত্রীর অশোভন আচরণের কারণে স্বামী আত্মহত্যা করেছে।
ঘটনাটি ১৯ জুলাই রোববার রাত সাড়ে ৮টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার শোরসাক উত্তর পাড়ায় ঘটে।
জানা যায়, গত ৮ মাস পূর্বে ওই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির খলিলের একমাত্র পুত্র মহিন উদ্দীন (২০) প্বার্শবর্তি মালের বাড়ির আবুল হোসেনের কন্যা সাথী আক্তার’র (১৬) সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে হয়। প্রায় ১৭ দিন পর তারা ফিরে আসলে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে স্থানিয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ মুসলিম শরীয়া মোতাবেক কাবিনমূলে আবারও বিয়ে দেন। ওই থেকে প্রায় সাড়ে ৭ মাস তারা সুখেই দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ জুলাই শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ সাথী তার বাবার বাড়ি যায়। যাওয়ার পর সে আর আসতে না চাইলে মহিন তাকে আনতে যায়। তখন সাথী আর শ্বশুর বাড়ি যাবে না বলে তার স্বামী মহিনকে জানিয়ে দেয়। মহিন চলে আসে। ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজের পর মহিন আবারও সাথীদের বাড়ি যায়। সাথী আর আসেনা। মহিন মনের দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফিরে সবার চোখের আড়ালে নিজ বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
নিহত মহিনের বোন জরিনা ও তার মা লাকি আক্তার দেখতে পেয়ে ডাক-চিৎকার করে। বাড়ির লোকজন ছুটে এসে মহিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ নিয়ে মর্গে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে ওইদিন রাত ১০টায় নামাজে জানাজার পর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
এবিষয়ে একই বাড়ির তৌফিক হোসেনের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, মহিন আমার চাচাত দেবর হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আমি কালিবাড়িতে ছিলাম। মহিন আমাকে ফোন দিয়ে কাঁন্না কন্ঠে বলে, ” ভাবী সাথী আমার সাথে আজও আসেনি। আমি তার হাত ধরে অনুরোধ করেছি। সে আমার হাতে কামড় বসিয়ে দিয়েছে। তবুও তাকে শত অনুরোধ করি। সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আর বলে, আমি আর তোদের বাড়ি যাবো না। তখন তার হাত ধরে কেঁদে উঠে বললাম, সাথী আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। আমি মরে যাবো। তখন সাথী আমাকে বলে, যা তুই ফাঁসি দিয়ে মর। তোর মৌতের খবর পেলে আমি তোকে শেষ দেখা দেখতে যাবো”। এই কথা বলে মহিন কেঁদে উঠে কলটি কেটে দেয় আর আমি বাড়ি এসে শুনি মহিন আত্মহত্যা করেছে।

মহিনের বন্ধু ইমান হোসেন বলেন, এই সাথীর জন্য আমার বন্ধু মহিন অনেক কষ্ট করেছে। মহিন তার বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। সাথী ও তার চাচাত ভাই এবং ভাবীর কারনে মহিন আত্মহত্যা করেছে। সে তাদের কঠোর শাস্তির দাবী জানায়।

এই ঘটনায় এলাকায় চাপা এক শোক বয়ে বেড়াচ্ছে।
থানা সূত্রে জানায়, মহিনের এই মৃত্যুতে একটি অপমৃত্যু ডায়রী রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকায় চাপা এক শোক বয়ে বেড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD