সীমান্তে দ্রব্যের বিনিময় ও নেশার ব্র্যান্ডিং ইমাউল হক পিপিএম

সীমান্তে দ্রব্যের বিনিময় ও নেশার ব্র্যান্ডিং ইমাউল হক পিপিএম

কক্সবাজার প্রতিনিধি

সীমান্তে দ্রব্য বিনিময় চলে।স্বর্ণের দাম এখন সবচেয়ে বেশি। আমাদের দেশে স্বর্ণের বার সচরাচর পাওয়া যায় না। স্বর্ণের ছোট ছোট দণ্ড স্বর্ণকারের দোকানে দেখা যায়।

লোকজন বলে বাংলাদেশে সাধারণত নোয়াখালী, চিটাগাং, কুমিল্লা, কক্সবাজার মানিকগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ ফরিদপুর শরীয়তপুর মাদারীপুর বরিশাল যশোর অঞ্চলের লোকজন বিদেশে থাকে। বিদেশের অধিকাংশ থাকে মধ্যপ্রাচ্যে।আমাদের দেশ থেকে অনেক লোকজন মক্কা-মদিনা ,রিয়াদ, কাতার, দোহা, বাহরাইন, দুবাই থাকে। সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া আমাদের দেশের নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সকলের চিকিৎসাসহ অন্যান্য কাজে ভ্রমণ নিয়মিত।

পত্র পত্রিকার তথ্য মতে সমস্ত দেশের কিছু প্রবাসী উচ্চ আকাঙ্ক্ষা ও লোভে পড়ে চোরাকারবারি তে জড়িত হয়। তারা পেটের ভিতর অভিনব পদ্ধতিতে এ সমস্ত দেশ থেকে স্বর্ণের বার বহন করে দেশে নিয়ে আসে।কেউ বাহক হিসেবে বহন করে সেখান থেকে ইনকাম করে।, কেউ নিজেই ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে বহন করে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাচারের চক্র স্বর্ণের বার আমাদের দেশে নিয়ে আসে। এর সাথে দেশী চক্র এবং বিদেশি কিছু অপরাধী জড়িত থাকতে পারে। অভিনব সব পদ্ধতিতে পেটের ভিতরে, পায়খানার রাস্তায় ,জিব্বার তালুতে ,বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে এ সকল স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা করে।

মাদক ও চোরা কারবারি ব্যবসায় দ্রব্যের অভিনব বিনিময়। টেকনাফ -উখিয়া, মায়ানমার সীমান্তে; ইয়াবা মায়ানমার হতে বাংলাদেশে আসে। যারা ইয়াবার ব্যবসা এবং সেবন করে তাদের বিভিন্ন হাত ও সিন্ডিকেট হয়ে সেটা বেনাপোল সীমান্ত চলে যায়।ইয়াবার সমান পরিমাণ মূল্যের ফেনসিডিল বেনাপোল থেকে বিভিন্ন হাত হয়ে টেকনাফ চলে যায়।

ভারতের সীমান্ত হতে ফেনসিডিল বাংলাদেশে এসে তমব্রু পর্যন্ত যায় ইয়াবার বিনিময় হিসেবে।মায়ানমার সীমান্ত হতে ইয়াবা বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তে যায় ফেনসিডিলের বিনিময় হয়ে।

কেউ ইয়াবা সেবন করে কেউ ফেনসিডিল সেবন করে দুই শ্রেণীর মাদকসেবী এবং দুই শ্রেণীর মাদক বিক্রেতা ও ব্যবসায়ী একে অপরের মধ্যে দ্রব্য বিনিময় করে মাদক ও চোরাচালান ব্যবসা চালায় বলে দীর্ঘ জনশ্রুতি আছে।

অঅস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের কিছু কিছু লোক গাঁজা চাষ করে। পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আবার গাঁজার চাহিদা বেশি আছে। যে দেশ থেকে আমাদের দেশে ফেন্সিডিল আসে।গাজা ও ফেন্সিডিল দ্রব্য বিনিময় হয় । সীমান্তে গাঁজা দিয়ে ফেনসিডিল আনতে বাদ পাম্পের তেল চুরি করে তেল দিয়ে ফেনসিডিল আনতে বা পাচার করতে বা চোরাকারবারি করতে কোন টাকা বা মুদ্রার প্রয়োজন হয় না।তবে আনাড়ি এসব পাচারকারী অহরহ গ্রেপ্তার হচ্ছে।

পাশাপাশি মায়ানমার সীমান্তে রাখাইন রাজ্য বাংলাদেশের সাথে লেগে যাওয়ায় রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।রোহিঙ্গাদের সাধারণত; মায়ানমার নিজস্ব কোন ব্যাংক একাউন্ট থাকে না।বারবার শরণার্থী হওয়ার কারণে তারা মায়ানমারে যে ইনকাম বা আয় রোজগার করে তা দিয়ে স্বর্ণ কিনে রাখে। স্বর্ণ তাদের ক্যারেট কার্ড হিসেবে ব্যবহার হয় । মজার ব্যাপার হলো অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত কিছু রোহিঙ্গা স্বর্ণ বন্দুক রেখে ইয়াবা নিয়ে এসে বিক্রি করে পাচার ব্যবসা করে। কেউ কেউ ইয়াবা বাকিতে কিনে নিয়ে এসে বিক্রি করে সেই টাকা মায়ানমারের মালিকদের ফেরত পাঠায়।

সীমান্তে দুটি দেশের ভিন্ন মুদ্রা হওয়ায় পাচারে দ্রব্য বিনিময় মুদ্রার কাজ করে। মায়ানমার ও উখিয়া টেকনাফের কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত পথে , নৌশথে বিভিন্ন দেশে মাদক পাচার করার কাজে জড়িত আছে। তবে পাচারকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে কে রোহিঙ্গা কে মায়ানমারের নাগরিক তার কোন ভেদাভেদ নেই। এবং কে কোন ধর্মের সেটাও নির্ভর করে না। চোরাকারবারি ও পাচার চক্র একে অপরের সমর্থক সদস্য এবং তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দিব্যি বিদ্যমান আছে।

নেশার জগতে প্রায় দশ বছর পূর্বে বাংলাদেশ হিরোইনের প্রচলন ছিল বেশি। মালয়েশিয়া নেপাল ভুটান ও সীমান্ত থেকে হিরোইন এদেশে আসত। নেশার ব্র্যান্ডিং এর কারনে হিরোইনের প্রতি নেশাখোরদের আসক্তি কমে মডিফাইড ও অত্যাধুনিক ব্র্যান্ড ইয়াবার প্রতি তাদের আসক্তি জমে। একসময়ের রমরমা হিরোইন ব্যবসায়ীরা ইয়াবা ব্যবসার প্রতি মনোনিবেশ করে। ফেনসিডিল নেশার এমন একটি উপকরণ যা হিরোইন বা ইয়াবার মত জীবনঘাতী আসক্ত সৃষ্টি করে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা ফেনসিডিল সেবন করে তারা গাঁজা সেবন করতে পারে কিন্তু অ্যালকোহল সেবন করে না। আবার যারা ইয়াবা অথবা হিরোয়িন সেবন করে তারা ফেনসিডিল সেবন করে না। ইয়াবা সেবনকারী ও হিরোইন সেবনকারী প্রায় কাছাকাছি।
আমাদের দেশে হিরোইনের নেশা অনেক কম ইয়াবা তার স্থান দখল করেছে।ইয়াবার নেশাকে ডিগ্রেডেশন করে অন্য কোন ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করা গেলে সেক্ষেত্রে মরণঘাতী ইয়াবার নেশা কমে যাবে এবং মায়ানমারের একচ্ছত্র মাদক ব্যবসা বাংলাদেশ নষ্ট হয়ে যাবে।

তাছাড়া ইয়াবার নেশা এবং ইয়াবা পাচার ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার রোধে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে সবাই। সে দিক দিয়েও ইয়াবা পাচার ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার পুরোপুরি চেষ্টা করা হচ্ছে।কঠোর অবস্থানে রাষ্ট্র ও সকল সংস্থা।গড ফাদার দের সূর্য প্রতিদিন ই অস্ত যাচ্ছে কারো না কারো। মাদক পাচার, নেশা,নেশাগ্রস্হ দের মাতবারি র যুগ শেষ। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছেন। মাননীয় পুলিশের আইজিপি নিজেই গাইড দিচ্ছেন নিয়মিত। মাদক নির্মূল হবেই। সেদিন বেশি দূরে নেই।

প্রশ্ন হচ্ছে একশ্রেণীর মানুষ মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ে কেন? এ বিষয়টির সামাজিক কাউন্সিলিং ও পারিবারিক পরিশোধন দরকার। পরিবার থেকে সমাজে মাদক নেশা ও চোরাকারবারির অপরাধ এর জন্ম হয়। আরো মজার ব্যাপার হলো বিদেশি অনেক মাদক ব্যবসায়ী তারা মাদকের নেশায় আসক্ত নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের দেশের সাধারণ কোন অপরাধীও নেশাকে নিজের স্মার্টনেস মনে করে ।

এই সামাজিক বিচ্যুতির চিকিৎসা সমাজ থেকে দিতে হবে। পারিবারিক অসঙ্গতি ও হতাশার সমাধান পরিবার থেকেই আসতে হবে। প্রবাসীদের পাচারে জড়িত হওয়ার কারণ পরিবার থেকেই সমাধান করতে হবে। বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিকগণের মধ্যে কিশোর বয়স থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতার প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
আর বাকি কাজটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট ও চোরাকারবারি এখন সমাজে সবচেয়ে ঘৃণিত।

তাই অপরাধের সৃষ্টি, অপরাধের যোগসূত্র এবং অপরাধ অঞ্চল ও বাহক সবকিছুর সমীক্ষা করে মাদক পাচার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জন্ম থেকেই সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির চেষ্টা করা উচিত। সেটাই হবে তার প্রকৃত চিকিৎসা ও সমাধান।

ইমাউল হক পিপিএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD