শাহরাস্তিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় দেড় শতাধিক পরিবার চরম দূর্ভোগে।

শাহরাস্তিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় দেড় শতাধিক পরিবার চরম দূর্ভোগে।

হাসানুজ্জামানঃ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মান ও মাছের ঘেরের কারনে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার পানিতে আবদ্ধ হয়ে দূর্বিসহ জীবন-যাপন করছে।
জানা যায়, ওই উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শোরসাক গ্রামের মালের বাড়ি, কানাইর বাড়ি, চৌকিদার বাড়ি, সাইদ আলী বেপারী বাড়ি, ভাটিয়া বাড়ি, বেপারী বাড়ি, ছোট রাউত বাড়ি, বড় রাউত বাড়ি ও আটিয়া বাড়ির দেড় শতাধিক পরিবার প্রায় ২০ দিন যাবত জলাবদ্ধতায় রয়েছে। এদের মধ্যে বহু পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না। আবার কাউ কেউ বসত ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় গ্রহন করেছে। এছাড়াও ওই এলাকার একমাত্র স্কুল শোরসাক উত্তর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকেনি।
কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভাটিয়া বাড়ির মহিনুদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, আমরা অসহায় ও গৃহহীন। স্থানিয় সংসদসদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের সুনজরে একটি ঘর পেয়েছি। বর্তমানে আমাদের ঘরের চার পাশে পানি বন্ধি হওয়ায় শিশু সন্তানদের নিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহন করেছি। সেখানেও এখন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যারা কালভার্টের মুখ বন্ধ করেছে এবং পানি নিস্কাশনের বিভিন্ন পথ রোধ করেছে তাদের সঠিক বিচার প্রার্থণা করেন তিনি।
একই গ্রামের মৃত আকবর হোসেনের পুত্র মোঃ মানিক মিয়া বলেন, আজ ২০ দিন যাবত বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পানি বন্ধি জীবন-যাপন করছি। আমাদের এই সমস্যাটি স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার ও ইউপি সদস্য হাতেম আলীকে অবহিত করেছি। উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার কালভার্ট আর পাইপের মুখ উন্মোচন করার নির্দেশ প্রদান করলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারীরা তা অমান্য করে। প্রতিনিধির এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আলিয়ার বাড়ির রফিক, শফিক ও শহিদুল্লাহ্, আছর উদ্দিন বেপারী বাড়ির হেঞ্জু ও আবদুর রব তাদের মাছের ঘের রক্ষা করতে কালভার্ট ও বেশ ক’টি পাইপের মুখ বন্ধ করে দেয়। যে কারনে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা।
কালভার্ট ও পাইপের মুখ খুলে দিয়ে স্বাভাবিক জীবন চলাচলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারিতা কামনা করেন তিনি।
ইউপি সদস্য হাতেম আলী বলেন, প্রতি বছরই এধরণের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে যারা এই পানি বদ্ধতা সৃষ্টি করেছে তাদেরকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলেছি এবং বিষয়টি চেয়ারম্যান সাহেবকে অবহিত করেছি।
সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। গত ২ বছরে সরকারী বরাদ্ধ থেকে প্রায় ৭শত ফিট পাইপ স্থাপন করেছি। আরও ২শতাধিক পাইপ আগামী অর্থ বছরে বরাদ্দ দিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারীদের বলে কালভার্ট ও পাইপের মুখ খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসী বলেন, প্রতি বছরই কতেক ব্যক্তির কারনে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সরকারী স্কুল ও আর্সেনিক মুক্ত চাপাকলটিও ব্যবহারে অনুপযোগী। সরকারী কালভার্ট ও পাইপের মুখ বন্ধ করে নিজ স্বার্থ হাসিল করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD