শাহরাস্তিতে সম্পত্তিগত বিরোধে ভাইয়ের হাতে ভাই আহত

শাহরাস্তিতে সম্পত্তিগত বিরোধে ভাইয়ের হাতে ভাই আহত

হাসানুজ্জামানঃ শাহরাস্তি

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পিতার জায়গা নিয়ে বড় ভাই ছোট ভাইকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে।
ঘটনাটি ১৪ আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিন ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে ঘটে।
জানা যায়, ওই গ্রামের দোকানী বাড়ির মৃত আবদুর রাজ্জাকের নিজ নামীয় ১৫ শতক জায়গার আংশিক ভূমিতে স্থায়ী নির্মানে বসত বাড়ি করা হয়। মৃত আবদুর রাজ্জাকের পুত্র মোঃ আহসান হাবীব (২৫) ও তার ভাই মোঃ দুলাল মিয়া যৌথ বিনিয়োগে এই বাড়ি নির্মান করা হয় বলে এলাকাবাসী জানায়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যায় দুলাল আহসান হাবীবকে দোকানে ঢুকে বেদম প্রহার করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। আহত আহসান এবিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আহত আহসান বলেন, আমি আমার পিতার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। আমার ভাই দুলাল প্রবাসে থাকাকালীন আমার বাবার সহযোগিতায় আমিসহ যৌথ একটি বাড়ি নির্মান করি। নির্মানের পর ওই বাড়িতে মা’কে নিয়ে উঠি। কিছুদিন পর দুলাল প্রবাস থেকে বাড়ি আসলে গত মার্চ মাসে আমাদের সবাইকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি আমার বৃদ্ধা মা’কে নিয়ে পিতার পুরাতন ভাংগা ঘরে উঠি। সে এবং তার স্ত্রী আমাকে ও আমার মা’কে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এমন কি দুলালের স্ত্রী আমার মা’কে মারধর পর্যন্ত করে। এলাকার সবাই তাদের এমন আচরনের কথা জানে। পিতার নিজ নামিয় ১৫ শতক জায়গার মধ্যে মা, ৩ বোন ও আমারসহ পৌনে ৮ শতক জায়গার অংশিদার হই। বাকি সোয়া ৭ শতক অন্য ৩ ভাইয়ের। অথচ দুলাল বর্তমানে একাই ৮ শতক জায়গা দখল করে আছে। সে আমাকে এখন পর্যন্ত ৩ বার অন্যায় ভাবে মেরেছে।
বার বার এধরণের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে এবং মা, বোন ও নিজের ন্যায্য হিস্যা বুঝে পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রসাশন এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

দুলাল হোসেন বলেন, আমার বাবা মৃত্যু বরণ করার আগে আমাকে এখানে কাগজ কলমে নকশা করে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন। বাবার দেখানো জায়গাতেই আমি বাড়ি নির্মাণ করি। আমার অবস্থান পরিবর্তন হওয়ায় হিংসাত্বক ভাবে আমাকে ঘায়েল করার নিমিত্তে মা, ভাই ও বোনেরা ষড়যন্ত্র করছে। আমি সত্যের পথে আমি। আমাকে মিথ্যা ফাঁসানোর চেষ্টা করছে তারা।

আহসান ও দুলালের আপন চাচা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিবাদমান ১৫ শতক জায়গাটি আমার ভাই আবদুর রাজ্জাকের নামে সাব-কবলা দলিল রয়েছে। পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও ওয়ারিশ সূত্রে তারা ৪ ভাই, ৩ বোন হিস্যানুযায়ী মালিকানা বহন করে। সেই ক্ষেত্রে ওই জায়গার হিস্যানুযায়ী দুলাল ২.৩৯ শতক জায়গার মালিক হলেও বর্তমানে সে প্রায় সাড়ে ৮ শতক জায়গা দখল করে আছে। যা নিয়মের অনিয়ম অথবা জবর দখল।

এলাকাবাসী বলেন, মৃত আবদুর রাজ্জাকের ৪ ছেলের মধ্যে আহসান সবার ছোট। সে শারিরীক ভাবে অসুস্থ্য থাকায় তার বাবা যে দোকান ব্যবসা করতেন ওই ব্যবসায় তাকে বসিয়ে দেয়। বিগত ২ বছর আগে তার বাবা মারা যায়। মৃত্যুর পর মা’কে নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠে তারা। দুলাল তখন প্রবাসে ছিলো। প্রবাস থেকে আসার পর দুলাল তার ভাই ও মাকে বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা মেরে দেয়। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় এলাকায় নানান গুঞ্জন উঠে। দুলাল এলাকার কারও কথা শুনে না এমনকি কাউকে মানেও না। যে কারনে তাদের বিবাদমান সমস্যাটি বিদ্যমান রয়েছে। সঠিক ও সত্য সকল তথ্য নিয়ে যোগ্য ব্যক্তি দ্বারা সমাধান করলে তাদের মধ্যে শান্তি ফিরে আসবে বলে তারা মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD