পূর্বসূরি দায় উত্তরসূরি আর কতো টানবেঃ রাজিব কুমার

পূর্বসূরি দায় উত্তরসূরি আর কতো টানবেঃ রাজিব কুমার

বিনোদন ডেক্স

©সঠিক তারিখ ইয়ার মনে পড়ছেনা, আমার পিচ্চি ছেলেকে নিয়ে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী মাষ্টার দা সূর্যসেনের সহকর্মী প্রয়াত বিনোদ বিহারী চৌধুরীকে দেখতে একবার উনার বাসায় গিয়েছি।

©উনি বেশ হাসিমুখে কুশল বিনিময়ে ছেলেকে কাছে টেনে আর্শীবাদ করেন। যে মাত্র আমি সাব- ইন্সপেক্টর( দারোগা)জেনেছেন,,,,মুহূর্তে কালবৈশাখি মেঘ মুখের অবয়ব ঢেকে আর ভালোমন্দ কিছু বলেন নি। বিদায়বেলাতে ও কতো চেষ্টা করেছি,’একটু হাসিমুখে বিদায় দিতে!’পারিনি,,,,,সে আক্ষেপ এখনো প্রায় সময়ে কষ্ট দেয়।

©পরে ভাবনার জগতে জেনেছি,’আমার পূর্বসূরিদের অমার্জিত এক ভীষণ ভয়ঙ্কর রূপ এ বিপ্লবী দেখেছেন’।এঁনাদের মনে আমৃত্যু ভালোবাসার ট্যাটু’র মতো বৃটিশ পুলিশের এঁকে দেয়া – হিংস্র রূপের যে উল্কি রযেছে তা মন থেকে মোছবার ক্ষীণ সম্ভাবনা ও নেই।

©বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে শুধু বাংলাদেশ নয়;সারা বিশ্বে সৌসুমি কালবৈশাখি প্রতিবাদ ঝড় ওঠে। সে ঝড়ে পুলিশ একা নন;তাঁদের স্ত্রী-সন্তান পরিবার পরিজন জবুথুবু হয়ে চিন্তা করেন,’ও কেন পুলিশ হতে গেল,,’।এমন কী সমস্বর প্রতিবাদে পুলিশের বউ-বাচ্চা আত্মীয়স্বজন যুদ্ধ ঘোষণ করেন।

©বাচ্চা শাসন,বউ তোষণ,প্রেম ভাষণে ও বেশ আপত্তি। বাসর রাতে ও বউটি গান ধরেন,’আমি তোমার বধু- তুমি আমার স্বামী খোদার পরে তোমায় আমি পুলিশ বলে জানি। ‘বাসর শেষের আগেই ভাবি, বান্ধবী এমন কী নীরবে শ্বাশুড়ি পর্যন্ত চিন্তায় থাকেন,’ওরে বাবা!মাছের রাজা ইলিশ,স্বামীর রাজা পুলিশ!এ রাজা ব্যাটা আমাদের ফুলির কপালে কত রাজটীকা পড়িয়েছে তা তাড়াতাড়ি জানতে হবে’।এটা সেটার ছুঁতো খুঁজে ফুলির বাসরে গিয়ে দেখেন-রাজা পুলিশ বেশ আনন্দে ঘুমোচ্ছে!ফুলি গুমরো মুখে বসে ইউটিউবে অবাধ্য পুলিশ কে কী করে বাধ্য করতে হয়;অসাধ্যকে সাধন,অবাধ্যকে বাঁধনে কী প্রকারে সংসার করা যাবে?স্ক্রীণে টেনে টেনে বার বার কৌশলের হাতে খড়ি নিচ্ছেন।

©ঘুম ভাঙতেই ভাবি,নতুন বউ সবার লম্প-ঝম্প শুরু।আহা! এ কী হলো,,,রাজটিকা ইচ্ছে করেই পড়ান নি।বউকে যতোই বোঝানো হচ্ছে– একনাগাড়ে ছয় দিন ডাকাত ধরতে ঘুম হয়নি।আজ নিরিবিলি পরিবেশ-আবেশে কখন যে,,,ঘুমিয়েছে বলতেই পারেন নি। বউয়ের সাফ জবাব,’ছেলে বেলা আমার দাদাজান কইছে,”বইন ফুলি কখন মইরা যাই!তয় তোরে একখান কথা কইয়া যাই–আমরার গেন্দু চোরারে বিশ্বাস করিস,কিন্তু পুলিশেরে করিস না। ক্যান দাদা! সে এক মস্ত কাহিনি। আরেকদিন কমুনে। গল্প না বলেই দাদাজান যে— দুনিয়া ছাইড়া গেলো,,, আর শোনা হয় নি।

©ফুলির একটাই জবাব–পুলিশের বিশ্বাস নেই। ‘নিশ্চিত তোমার অনেক গার্লফ্রেন্ড আছে। ওদের নিয়া লটরপটর কইরা আমি সহজ-সরল অবলার কাছে আইছ। “সে কী বিলাপের কান্না। সবাই ভাবছে পুলিশ বাবাজি বাসর রাতে সব বিলাই মেরে ডাষ্টবিনে ফেলে দিয়েছে। পুলিশ বাবা-র শ্বশুড় নামকরা আইনজীবী।পরের কাহিনি নিয়ে হতভাগ্য পুলিশ বর কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না।

©মাদক ব্যবসা -বালু ব্যবসা-ঝুট টেন্ডার-ঠিকাদার ইজাদরাদার,চাঁদাবাজ, ভেজাল, সন্ত্রাস সরকারের লালবাতি নীলবাতি বাজিয়ে নাদুস-নুদুস বড় সাহেব,লাটসাহেব বনে রাতারাতি বাড়ি গাড়ি করে থাকা সংখ্যাধিক্য চরম ভদ্রলোকদের কেউ চিনুক না চিনুক জানুক না জানুক পুলিশ ঠিকই জানে চিনে। হঠাৎ বড়লোক প্রজাতির সন্তানকে পাড়ার বন্ধুরা সবাই সমীহ আদর করেন। কারন স্কুলের সব বন্ধুদের জন্যে দু’হাতে টাকা খরচ করেন। বাসায়
বাবার উপদেশ,’ দ্যাখো রবিন কোনো পুলিশের ছেলের সাথে মেলামেশা করোনা কিন্তু!পুলিশ খারাপ, ওদের বাবারা ঘুষ খায়।’

©পাশের বাসার সুইটি ভাবি একাকি। সময় কাটাতে এটা সেটার অজুহাতে দিনে ও মকমল নাইটি ড্রেসে এসে বলেন,” ভাবি,,,আমার সাহেব ব্যবসার কাজে ঘন ঘন থাইল্যান্ড যান।কিছুদিন আগে এটা এনেছে,,,গলার ডায়মন্ড লকেট-টা যে দেখছেন,,, সিঙ্গাপুর হতে এনেছেন। এ দেশের টাকাতে প্রায় তিরিশ লাখ। কী ভাবি!আপনার তেমন কিছু দেখছি না যে,,,,সাহেব কিছু দেন না,,বুঝি!সুযোগ পেলে বলে বসেন,,,আসলে যে বেতন পান,,,,আমার ও এক বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল। ছেলেটা দেখতে বেশ স্মার্ট সুন্দর!কিন্তু আমি রাজি হইনি। এখনো রাতে আমার খোঁজ নেন,আমাকে না পেয়ে কবি হযে গেছেন,,,,। ভাবি আমি কিন্তু আপনার প্রতিবেশি,পুলিশের চরিত্র কিন্তু ভালো না,ওরা ঘুষ খায়!সুন্দরীদের মন চুরি করে, সাহেব’কে একটু চোখে বুকে রাখবেন। পুরুষ হলো- অজগরের খাবারের মতো-‘আমাদের বুকের এক ঘষাতে এক চুমুতে ওরা আমাদের খাবার হতে চায়;মরতে ও চায়। পুরুষ খেযে একবারেই হজম করে নিতে হয়।”কোভিড(covid)রোগির মতো বেঁচে গেলে প্লাজমা দিয়ে আমাদের শেষ করে দিবে’।

©আমার কাব্যের জন্ম চলার পথে।মনের ইথারে ভাসে আমি লিখি।সম্বল মোবাইল কী বোর্ড। এপার -ওপার হয়ে অনেক দেশের কবি-লেখক বন্ধুদের সাথে হৃদয়ের নৈবদ্য ভাগাভাগি করি।ওপার বাংলার সমৃদ্ধ এক লেখিকা আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। আপনারা উনার লেখা পড়তে পারবেন। আমি স্ক্রীণ দিয়েছি। আমার কাব্য উন্মুক্ত। সবাই পড়ুক,জানুক। আমার কবিতা পুলিশের বিপি হেল্পলাইন,পুলিশ গ্যালারি সহ বিভিন্ন পোর্টাল, সারাদেশে যে যার মতো প্রকাশ করেন।আমি বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য। পোষাক আমার অহংকার ও গর্ব। কবি লেখকের কোন ড্রেসকোড আমার জানা নেই। বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীর মতো পুলিশ কবিকে কবি সমাজে স্হান দিলে কবি ও লেখক সমাজ ছুতমার্গ হয়ে যাবে। আমার জানামতে কবি’র অহংকার নতুন নতুন সৃষ্টি। প্রকৃত কবি-লেখকের ড্রেস কোডের দরকার নেই।বাংলাদেশ পুলিশ আমার অহংকার। পুলিশের মাঝে যারা Police অহংবোধ ধারন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা পুলিশের কেউ নন।বৃটিশ হতে বাংলাদেশ। আর কতটা ধারনা-অনুমান দায় আমাকে টানতে হবে জানি না।

©রাজীব কুমার দাশ
১০অক্টোবর২০২০ খ্রি.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD