ফরিদগঞ্জে লাইসেন্স ছাড়া চলছে অর্ধশতাধিক স’ মিল

ফরিদগঞ্জে লাইসেন্স ছাড়া চলছে অর্ধশতাধিক স’ মিল

মোঃজসিম উদ্দিন,ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে, বন অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুমতি তথা লাইসেন্স ছাড়াই অবাধে চলছে অর্ধশতাধিক করাত কল (স’ মিল)। ওইসব স’ মিলের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার কাঠ চিরাই করা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কাঠ চেরা ও বেচাকেনা তো দূরের কথা, পরিবহন করাও নিষিদ্ধ।

তাছাড়া মালিক পক্ষকে ভুমি অফিস থেকে নির্মিত স্থানের ছাড়পত্র এবং পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে উপজেলা বন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির কাছে আবেদন করতে হয়; আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমতি পেলে তবেই সে স্থানে স’ মিল গড়ে তুলা সম্ভব। কিন্তু নকলায় এই আইন প্রয়োগের কোন বালাই নেই।

তথ্যমতে, কোন ব্যক্তি বন বিভাগের আইন অমান্য করলে ওই ব্যক্তিকে ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছরের সাজা এবং ২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দন্ডে দন্ডিত করতে পারেন সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাছাড়া সরকারি আইন অমান্য করে হাট-বাজার এলাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে স’ মিল গড়ে উঠায় শব্দ ও পরিবেশ দূষণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকছে এলাকাবাসী এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী।

সাধারনত স’ মিল মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় যে কেউ মুখ খুলতে ভয় পায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, শব্দ ও পরিবেশ দূষণের কারনে তাদের দোকান ঘর কেউ ভাড়া নিতে চায়না। ভাড়াটিয়া না পাওয়ায় প্রায় সারা বছর তাদের দোকান ঘর খালি থাকে। তারা আরো জানান, ভাড়ার আশায় দোকান ঘর করেছিলেন। কিন্তু দোকান ঘরের কাছে করাত কল গড়ে উঠায় তাদের সেই আশা পূরণ হচ্ছেনা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বে থাকা বন কর্মকর্তা মোঃ কাউছার আহম্মেদ জানান, এই উপজেলায় মোট ৭৪টি স”মিল রয়েছে। তার মধ্যে ১২টি লাইসেন্স প্রাপ্ত,৮টি পক্রিয়াধীন বাকী৫৪টির লাইসেন্স নাই।মালিক পক্ষকে একাধিক বার নোটিশ করার পরও কেউ সাড়া দেয়নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD