অনেকেই লকডাউন কেমন চলছে তা দেখতে বাইরে আসছেন।

অনেকেই লকডাউন কেমন চলছে তা দেখতে বাইরে আসছেন।

নিউজ ডেক্স

লকডাউনের মধ্যে জরুরী প্রয়োজনে উপযুক্ত ফেসমাস্ক পরিধান করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকেই বাইরে আসছেন। আবার কেউ কেউ ঠুনকো অজুহাতে বাইরে আসছেন। এমনকি খুবই দুঃখজনক কেউ কেউ লকডাউন কেমন চলছে তা দেখতে বাইরে আসছেন। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া অবসরে আত্মীয় বাড়িতে যাওয়ার অজুহাতও কেউ কেউ দেখাচ্ছেন। মাস্ক পরিধানের পরিমান বেশ বেড়েছে। তবে এখনো তরুণদের অনেকেই মাস্ক পকেটে রেখে বের হচ্ছেন। আইনশৃংখলা বাহিনির সদস্যদের দেখলে তড়িঘড়ি করে মাস্ক পরিধান করছেন। অনেকেই মাস্ক পরিধান করলেও নিশ্বাস নিতে সমস্যা হয় অজুহাতে নাক ঢাকছেন না। প্রয়োজনের তাগিদে কাঁচা বাজার বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা। এসময় প্রতিদিন বাজার করার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারলে ভাল। কিন্তু উচ্চ বিত্তের অনেকেই আছেন তাদের প্রতিদিন ফ্রেশ বাজার চাই। কাঁচা বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা শারীরিক দূরত্ব মানতে চাননা। অথচ সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে কাঁচা বাজার এবং সুপার স্টোর থেকে অনেকেই করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন। আসুন কৃচ্ছতা সাধন করি যতদূর সম্ভব কম বাজারে যাই। ক্লিনিকে বা হাসপাতালে বাডাক্তারের চেম্বারে যাওয়া অনেকের সংগে দেখা হলো। অদ্ভুত অনেকের কাছেই প্রেশক্রিপশন বা প্যাথলজিক্যাল কোন কাগজপত্র নাই। একজন মা তার দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া সন্তানকে রিক্সায় পেলাম। মায়ের মাস্ক পরিধান দেখা গেলেও সন্তানের মাস্ক হাতে। জিজ্ঞাসা করলাম খোকা কি খবর কোথায় যাও। খোকা কোন কথা না বলে হা করে ২ পাটি দাঁত বের করে দেখালো দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে। কোন ডাক্তার বা ক্লিনিকে যাবে মা ও ছেলে তা বলতে পারলোনা। নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাক, মিনি ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান অনুমোদিতভাবে চলছে। একটি কাভার্ড ভ্যান খুলে দেখা গেল ভিতরে কৃষিজাত পণ্যের পরিবর্তে নিশিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন বহন করছেন।কাভার্ডভ্যানটি নিশিদ্ধ পলিথিনসহ জব্দ করা হলো। চালক ও পলিথিনের মালিককে আটক করা হয়েছে। এভাবেই চলমান লকডাউনে কারনে অকারনে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছে। যারা আইনভঙ্গ করে বাইরে বের হচ্ছেন বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা হিসেবে ন্যুনতম জরিমানা করা হচ্ছে। জরিমানা বা শাস্তি বড় কথা নয়। করোনা প্রতিরোধে গণ সচেতেনতা অত্যন্ত জরুরী। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ উর্দ্ধগতি প্রতিরোধে লকডাউনের বিকল্প নেই। লকডাউনে অনেক সাধারণ মানুষের জীবিকা অর্জণ মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে মনে রাখতে হবে করোনায় অনাকাংখিকত বেদনাদায়ক মৃত্যুর চেয়ে এই ক্ষতি বড় নয়। তবে সদাশয় সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান এবং সামর্থবাণ প্রতিটি নাগরিককে করোনায় কর্মহীন গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের খাদ্য সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর কোন বিকল্প নাই। আসুন আমরা জাতীর দুর্দিনে আমাদের গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষকে সহায়তা করে আমাদের মানবিক দায়িত্ব পালন করি। লকডাউন চলছে, করোনা ভাইরাস সংক্রনণ প্রতিরোধে আপাতত বাড়িতেই থাকুন। করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সকলে স্বাস্হ্য বিধি অনুযায়ী সামাজিক বিচ্ছিন্নকরন(Social distancing) নিশ্চিত করুন । ঘন ঘন সাবানপানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধৌত করুন। অতি জরুরী কাজে বাইরে গেলে অবশ্যই উপযুক্ত মাস্ক পরিধান করুন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ অনুগ্রহ পূর্বক
শতভাগ সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মেনে চলুন। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের করোনা মহামারী থেকে মুক্তি দিন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD