খাদ্য মন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেকর্ড সৃষ্টি করেছে অধ্যক্ষঃ

খাদ্য মন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেকর্ড সৃষ্টি করেছে অধ্যক্ষঃ

নওগাঁ প্রতিনিধি

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার তিনার নিজ এলাকা নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলাধীন বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের বহু সমালোচিত অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন ( আরবি বিষয়)। অর্থ লোভী এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পদে পদে বিভিন্ন অনিয়ম বের হয়ে আসছে। এবার জানা গেল যে অধ্যক্ষ মোটা অঙ্কের অর্থ লোভে পড়ে গোপনে খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় এর স্বাক্ষর জাল করেছে। অর্থাৎ খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় উক্ত কলেজে ২০১৫ সালে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। সেই সময়ে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান মোঃ আমজাদ হোসেন। শিক্ষকের প্রয়োজনে উক্ত কলেজে গত ৩১/০৭/২০১৫ খ্রীঃ তারিখে তিনটি বিষয় যথাঃ গার্হস্থ অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান ও অর্থনীতি নিয়োগ বোর্ড গঠন হয়েছিল। উক্ত নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বর্তমান খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার। নিয়োগ বোর্ডের পরে কলেজ গভর্নিং বডি কর্তৃক রেজুলেশন তৈরি হয় যার অধিবেশন নং ০৫/ ২০১৫, তারিখঃ ২২/০৮/২০১৫, সময়ঃ ১০ ঘটিকা, স্হান- কলেজ অফিস। এই রেজুলেশনের ২ নং আলোচ্য বিষয়ে তিনটি বিষয় যথাঃ গার্হস্থ অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান ও অর্থনীতি নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত সর্ব সম্মতি ক্রমে গৃহীত হয়। যা মূল রেজুলেশনে খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় এর স্বাক্ষর সহ পরিস্কার লেখা রয়েছে এবং অধ্যক্ষের সত্যায়িত রয়েছে।
কিন্তু পরে কোন এক এক সময়ে অধ্যক্ষ গোপনে এই মূল রেজুলেশন কাটাকাটি করে তথ্য পরিবর্তন করেছে। জানা যায় ২২/০৮/২০১৫ এর মূল রেজুলেশনের যে পৃষ্ঠায় ০২ নং আলোচ্য বিষয়ে যে লাইনে তিনটি বিষয়ে নিয়োগ লেখা ছিল সেই লাইন অধ্যক্ষ গোপনে ঘোষামাজা বা কাটাকাটি করে ঐ লাইনে পুনরায় অতিরিক্ত ভুয়া পাঁচটি বিষয় যথাঃ বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও ভূগোল অধ্যক্ষ নিজেই লিখে মোট আটটি বিষয় বসিয়ে নিয়োগের উল্লেখ করেছে যা সম্পূর্ন অবৈধ ও অনেক বড় অপরাধ। অধ্যক্ষ এই মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে ৩১/০৭/২০১৫ তারিখে যেন শুধু তিনটি বিষয় নই ঐ দিনে মোট আটটি বিষয় নিয়োগ হয়েছিল। আরো জানা যায় যে প্রকৃত তিনটি বিষয়ে নিয়োগের সরকারি সকল কাগজ পত্রের স্মারক নং, তারিখ ও সরকারি প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর জাল করে তিনটির পরিবর্তে আটটি বিষয় লেখে ভুয়া নিয়োগ দানের রেকর্ড সৃষ্টি করেন অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষ মূল রেজুলেশন কাটাকাটি সহ সকল কাগজ জালিয়াতি করে প্রকৃত নিয়োগ প্রাপ্ত অর্থনীতি প্রভাষক মো এরশাদ আলীর বেতন ভাতা চালুর জন্য রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস, রাজশাহীতে গত ০২/০৫/২০২০ তারিখে খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় এর স্বাক্ষরিত অগ্রায়ন পত্রের মাধ্যমে বেতনের ফাইল দাখিল করেন। কিন্তু রেজুলেশন কাটাকাটি দেখে উক্ত অফিস এরশাদ আলীর বেতনের ফাইল রিজেক্ট করে দেন এবং নিজেক্ট কপিতেই অধ্যক্ষের সকল জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে।উক্ত অফিসেই প্রথমে ধরা পড়ে অধ্যক্ষের এমন বড় জালিয়াতি। পরে উপরে উল্লেখিত সকল জালিয়াতি বের হয়ে আসে।
পরবর্তীতে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক মহোদয় সরেজমিনে কলেজ গিয়ে তথ্য যাচাই করে অধ্যক্ষের সকল জালিয়াতি প্রমাণ পেয়েছেন। উক্ত অফিস অধ্যক্ষের নিকট জবাব চান কিন্তু অধ্যক্ষ যথাযথ জবাব দিতে পারেন নাই। রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক মহোদয় মন্তব্য করেন যে অধ্যক্ষ কর্তৃক মূল রেজুলেশন ব্যাপক কাটাকাটি করে তথ্য পরিবর্তন করে অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দানের লক্ষে অধ্যক্ষ কর্তৃক ভুয়া রেকর্ড সৃষ্টি করা হয়েছে বিধায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ১৮.১ (গ) ও (ঙ) ধারা অনুসারে অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য মাউশি অধিদপ্তরের নির্দেশনা প্রয়োজন।
বহু সমালোচিত অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় এর স্বাক্ষর জাল করা সহ সকল সরকারি প্রতিনিধি মহোদয় গনের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেকর্ড সৃষ্টি করার জন্য প্রকৃত নিয়োগ প্রাপ্ত অর্থনীতি প্রভাষক মোঃ এরশাদ আলীর বেতন ভাতাদি ২০১৯ সালের জুন- জুলাই মাস থেকে আজ অবধি চালু হচ্ছে না। জানা যায় যে অধ্যক্ষ এখন নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য মিথ্যা কথা বলছে, নানা ষড়যন্ত্র করছে ও ছোটাছুটি করছে।
এমন ঘটনার পরে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে কলেজ এলাকার সকল মানুষের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকলেই অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করছেন। কলেজ এলাকার আমজনতা ও নেতাকর্মীরা বলেন অধ্যক্ষ খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় এর স্বাক্ষর জাল করে মন্ত্রী মহোদয় সুনাম ও অবদান নষ্ট করে দিচ্ছেন। সেই সাথে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠীত বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার মান ও কলেজের উন্নয়নের ধারা নষ্ট করে দিচ্ছে স্বার্থ লোভী অধ্যক্ষ। কলেজ এলাকার আমজনতা ও নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেনের স্হায়ী বরখাস্তের জন্য খাদ্য মন্ত্রী মহোদয় এর নিকট ও মাউশি অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিকট বিনীত অনুরোধ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD