আদালতে চলমান মামলা থাকা সত্বেও গোপনে জমির বায়নাপএে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

আদালতে চলমান মামলা থাকা সত্বেও গোপনে জমির বায়নাপএে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

এস আর শাহ আলম

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার দেবকরা রাজা খাঁ বাজার সংলগ্ন মোল্লা বাড়ির মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে মো: মিজানুর রহমান চাঁদপুর আদালতে জমির মামলা চলমান থাকাবস্থায় একই উপজেলার পাথৈর গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে মো: ফরিদের নিকট বায়নাপত্র দলিলে নোটারী করিয়ে নগদ ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বায়নাপত্র দলিল ও অভিযোগকারী সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান গত ০৩/০৯/২০১৮ইং প্রসন্নপুর মৌজার সি.এস ৬৯নং খতিয়ান এস.এ ৮৬নং খতিয়ান সাবেক ৩০৭ দাগে হালে ৫৫৭ দাগে ১ হইতে ৮নং দাগে ২ (দুই) শতক (ভিটা) দোকানের জমি খিলা বাজারে অবস্থিত বিক্রির কথা বলিয়া পাথৈর উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে আঃ রহমানের প্ররোচনায় মো: ফরিদের নিকট থেকে সাত ফর্দের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র দলিলে নোটারী করে দিয়ে নগদ ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। স্ট্যাম্পগুলো যথাক্রমে— কন ৪৮২৫৫৪৯, কন ৪৮২৫৫৫০, কছ ৫৮২৫৬১২, কছ ৯৫০১১২২, কপ ৮৮১৪৪৭৯, কপ ৮৮১৪৪৭৭, কপ ৮৮১৪৪৭৪। ঐ সময় বাজার মূল্য অনুযায়ী দুই শতক ভূমির মোট মূল্য ১৬ লক্ষ টাকা বায়নাপত্র দলিলে নির্ধারিত হয়। ১৬ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। বায়নাপত্র দলিলে মিজানুর রহমান আরো উল্লেখ করেন এই দুই শতক আদালত তার নামে খারিজ খতিয়ান করে দিতে আদালত শাহরাস্তি উপজেলা ভূমি অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং মিজানুর রহমান তার নিজ খরচে মো: ফরিদের নামে খারিজ খতিয়ান করিয়ে দিয়ে বাকী ৬ লক্ষ টাকা নিবেন। অদ্যবধি পর্যন্ত মিজানুর রহমান সেই দুই শত ভূমি বুঝিয়ে দেননি। আদালতের আদেশ নামে যে তথ্য স্ট্যাম্পে উল্লেখ করেছে তাও মিথ্যা ও ভূয়া। প্রকৃতপক্ষে আদালত এখনও আদেশ দেননি। শাহরাস্তি থানাসহ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসলেও মিজানুর রহমান উপস্থিত সালিশগণের নিকট ঘটনার সততা স্বীকার করে দেই দিচ্ছি বলে তালবাহানা করিতেছে। সর্বশেষ গত ২৪/১২/২০২২ইং সকাল ৭:০০ ঘটিকায় মো: ফরিদের স্ত্রী শিল্পী তার ১৯ বছরের ছেলে রাকিবকে নিয়ে মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে বলে গত চার বছরে আমাদের জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে পারেননি। আমাদের আর জমি লাগবে না। দয়া করে আমাদের ১০ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে দেন। টাকা ফেরত চাওয়ায় মিজানুর রহমানের সাথে মো: ফরিদের স্ত্রী শিল্পী ও রাকিবের সাথে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে মিজানুর রহমান ও তার ছেলে খোকন মো: ফরিদের স্ত্রী শিল্পীকে সেগুন গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে এবং শিল্পীর গলায় ছাপ দিয়ে শিল্পীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে শিল্পীকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পীকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে অলিখিতভাবে পাঠালে শিল্পী চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। দুঃখের বিষয় মিজানুর রহমানের সাথে এই টাকা লেনদেনের পর পরই ফরিদ হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। শিল্পী এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অপরাধ দমন সংস্থা (আইএইচসিপিএফ)—ও অভিযোগ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD