নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেতে ৭৬ দলের আবেদন ইসিতে

 

অনলাইন ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছে ৭৬টি দল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এসব দল নিবন্ধন পেতে আবেদন করে। দলগুলোর মধ্যে আলোচিত মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, কাজী জাফরের জাপা, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনও নিবন্ধন চাইছে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এতে শুধু নিবন্ধিত দলগুলোরই অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা বেগম জানান, আমাদের কাছে নতুন দলের নিবন্ধন নিতে ৭৬টি দল আবেদন জমা দিয়েছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আবেদন যাচাই-বাছাই, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে মার্চের মধ্যে নতুনদের নিবন্ধন চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে, যাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারাও অংশ নিতে পারে।

নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ইচ্ছুকদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে গত ৩০ অক্টোবর ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী দলগুলোর আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গতকাল ৩১ ডিসেম্বর।

নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, তিনটির মধ্যে একটি শর্ত পূরণ হলেই তারা নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। শর্তগুলো হলো ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো জাতীয় নির্বাচনে আগ্রহী দলটির যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন।২. যে কোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পান।৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকে।

আবেদন করা দলগুলো হচ্ছে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ আলোকিত পার্টি, বাংলাদেশ সমাধান ঐক্য পার্টি, বাংলাদেশ কর্মসংস্থান আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ মঙ্গল পার্টি, বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল), বাংলাদেশ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক গাজী, বাংলাদেশ জালালী পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, এহসানিয়া বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ সমাজ উন্নয়ন পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, বাংলাদেশ নিউ সংসদ লীগ, বাংলাদেশ পরিবহন লেবার পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, নাকফুল বাংলাদেশ, তৃণমূল ন্যাশনাল পার্টি, বাংলাদেশ সত্যব্রত আন্দোলন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, সোনার বাংলা উন্নয়ন লীগ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সমাজ উন্নয়ন পার্টি, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ঘুষ নির্মূল পার্টি, বাংলাদেশ গণশক্তি দল, বাংলাদেশ সততা দল, বাংলাদেশ তৃণমূল পার্টি, বেঙ্গল জাতীয় কংগ্রেস, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, সুশীল সামাজিক আন্দোলন, লিবারেল পার্টি, বাংলাদেশ রামকৃষ্ণ পার্টি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামি পার্টি, মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় দল, জাতীয় পরিবার কল্যাণ পার্টি, নতুন ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, সাধারণ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ তৃণমূল কংগ্রেস, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিজম ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণআজাদী লীগ, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ শান্তির দল, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি, জনস্বার্থে বাংলাদেশ, জনতার কথা বলে, বাংলাদেশ তৃণমূল লীগ, বাংলাদেশ জনতা পার্টি, নাগরিক ঐক্য, মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস এবং বাংলাদেশ আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)।

EC pp

দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগ্রহী নতুন ৪৩টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ৪১টি দলই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘যোগ্যতার’ প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। মাত্র দুটি দল শর্ত অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কার্যালয় ও কমিটি থাকার তথ্য দিয়েছিল। এরপর তাদের নিবন্ধন দেয় কমিশন। দল দুটি হলো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত দল ৪০টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD