বিষ্ণুপুরে ভুয়া মৎস্য সমিতির নামে সরকারি দিঘী ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা,ঘটনাস্থলে তদন্তটিম

বিষ্ণুপুরে ভুয়া মৎস্য সমিতির নামে সরকারি দিঘী ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা,ঘটনাস্থলে তদন্তটিম

জসিম উদ্দিন মিলন

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ভুয়া মৎস্য সমিতি দেখিয়ে সরকারি দিঘী ইজারা নেওয়ার পাঁয়তারা করছে প্রতিপক্ষরা।
জানাযায় অবৈধভাবে ধনপদ্দি আদর্শ মৎস্যজীবী সমিতি অনুমোদন দেওয়া ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বেআইনি ভাবে উক্ত সমিতিকে পুকুর ইজারা দেওয়ায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
১৯ জুলাই রবিবার সকাল ১১টায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হাসাদী গ্রামের (দমদমা দিঘী) মজাপুকুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছেন তদন্ত টিম।
টিম প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দুইপক্ষের কাছ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
জানা যায় ১৯৭৫ সালে থেকে হাসাদি মজাপুকুর সংস্কার সমবায় সমিতি লিঃ অনুমোদন নিয়ে এ পুকুর টি দীর্ঘ বছর যাবত সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছে।
কিন্তু বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন গ্রাম্য দফাদার মোঃ আবুল হোসেন সে তার নিজের নামে জেলে কার্ড তৈরি করে,
ধনপদ্দি আদর্শ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হয়ে অনুমোদনের জন্য গত ৬ জুন সমবায় অফিসে আবেদন করেন।
চাঁদপুর উপজেলা সমবায় অফিসের অডিটর মোঃ শাহাবুদ্দিন তদন্ত না করে আবেদনের পরের দিন ৭ জুন তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেয়।
ওই দিনেই সমিতির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার আবুল হোসেন হাসাদী গ্রামের (দমদমা) মজা পুকুরটি ইজারা নেওয়ার জন্য টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন।
জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতি ,২০০৯ এর ১৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে দিঘির পাশে নিকটবর্তী বসবাসরত ব্যক্তিগনের সমন্বয়ে গঠিত সমিতি সমবায় অধিদপ্তর কিংবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্থানীয় অফিসের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদী ইজারা প্রদান করতে হবে।
কিন্তু সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে ধনপদ্দি আদর্শ মৎস্যজীবী সমিতি অনুমোদন দেওয়া ও নিয়মনীতি না মেনেই উক্ত সমিতিকে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
হাসাদি মজাপুকুর সংস্কার সমবায় সমিতি লিঃ এর ম্যানেজার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন গাজী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করে ও এর অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত টিমের সদস্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য ও সমবায় কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন এবং খোঁজ খবর নেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুইটি বিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। যারা আবেদন করেছেন তারা প্রকৃত মৎস্যজীবী কিনা ও চারপাশের বাসিন্দা কিনা তা তদন্ত করা হয়।
দুই পক্ষের কাগজ দেখে তদন্তের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাসাদি মজাপুকুর সংস্কার সমবায় সমিতি লিঃ ম্যানেজার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন গাজী জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে সমিতির মাধ্যমে মজা পুকুর ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছি।
কিন্তু বহিরাগত কিছু লোক ভুয়া সমিতি দেখিয়ে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এই পুকুরটি ইজারা নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
যা অসম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী।

ধনপদ্দী আদর্শ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি গ্রাম্য দফাদার মোঃ আবুল হোসেন কিভাবে তার নিজের নামে জেলে কার্ড তৈরি করলো, সে একজন ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারি হয়ে বেআইনি ভাবে জেলে কার্ড তৈরি করে গত ৬ জুন সমবায় অফিসে আবেদন করেন এবং তদন্ত না করে আবেদনের পরের দিন ৭ জুন তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেয়।
ওই দিনেই সমিতির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার আবুল হোসেন হাসাদী গ্রামের (দমদমা) মজা পুকুরটি ইজারা নেওয়ার জন্য টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন।
আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই ভুয়া সমিতির ও দপেদারের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে এর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD