পরিবর্তন হচ্ছে নাম করন

পরিবর্তন হচ্ছে নাম করন

এস আর শাহ আলম

বহু বছরের পুরোনো নামের সেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশন আর থাকছে না। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব নাম বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী বহুল পরিচিত সেই ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে যাচ্ছে পল্লী পরিষদ, পৌরসভা হচ্ছে নগর সভা, আর সিটি করপোরেশন হচ্ছে মহানগর সভা। চেয়ারম্যান মেয়ররা বদলে যাবেন পুরাধ্যক্ষ কিংবা আধিকারিক নামে।

যদিও স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পরিবর্তন একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ও এখতিয়ার বর্হিভূত। বরং সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে নজর দেয়া উচিত কমিশনের।

স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুতে ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল কাঠামো ইউনিয়ন পঞ্চায়েতের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদ। সেই থেকে প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে এর কাঠামো চলছে এই নামেই। কিন্তু হঠাৎ করেই এই নাম বদলের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নতুন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আইন ২০২০ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ইসি। যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের নাম পাল্টে দেয়া হচ্ছে পল্লী পরিষদ। আর সিটি করপোরেশন-মহানগর সভা এবং পৌরসভার নতুন নাম হবে নগর সভা।

আইনটি সংসদে পাশ হলে কেবল প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, বহুল পরিচিত মেয়র কিংবা চেয়ারম্যান শব্দও আর থাকবে না।

সিটি করপোরেশনের মেয়রকে ডাকা হবে আধিকারিক নামে, এবং পৌরসভার মেয়র হবেন পুরাধ্যক্ষ। আর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পদবি বদলে হবে পল্লী পরিষদ প্রধান।

স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে নজর না দিয়ে, এসব নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অহেতুক ও এখতিয়ার বহির্ভূত।

তারা বলছেন, ইসির প্রস্তাবনা অনুযায়ী আইনটি পাশ হলে তৈরি হতে পারে বহুমুখী সংকট। সেই সাথে বিদ্যমান আইনেও পরিবর্তন আনতে হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তবে পরিবর্তন হবে না উপজেলা বা জেলা পরিষদের নাম। আইনটি পাশ ও প্রস্তাবনার জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয় পাঠাবে নির্বাচন কমিশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD