মেঘনার ভাঙন রোধে স্হায়ী বাঁধের দাবি চাঁদপুর বাসির

মেঘনার ভাঙন রোধে স্হায়ী বাঁধের দাবি চাঁদপুর বাসির

এস আর শাহ আলম

স্বাধীনতার ৪৯ বছর, ধীরে ধীরে মানচিএ থেকে চাঁদপুর জেলা ছোট হয়ে গেছে বসবাসরত মানুষের সম্পদ , নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে জেলার চার ভাগের এক বা দ্বিতীয় অংশ, কিন্তু মেঘনার বুক জুরে আছে জেলার বিরাট একটি অংশ যেটা ফিরিয়ে আনা কখনো সম্বভ নয়, তবুও চাঁদপুর জেলার মধ্যে তার সিমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু সেই ১৯৭১ সালের সেই সম্পদ যাহা মানচিএে ছিলো উচু জমির পরিমান, আজ ২০২০ সালে তাহা নেই, কারন ৭১ সালের পর থেকে রাক্ষসী মেঘনার হিংস্র ছোবঁলে বছরের পর বছর মেঘনার পেটে চলে যাচ্ছে, বর্তমানে এর কুল কিনারা খুজে পেতে সময়ের ব্যপার হয়ে দাড়ায়,

কেনো না চাঁদপুর জেলার বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজার যার সাথে ছিলো দেশের প্রতান্ত জেলা গুলির বাণিজ্যিক সম্পর্ক, তৎকালীন সময়ে রাজা মহারাজ দেওয়ান আর সওদাগররা , পালতোলা বাদামের ঘাশি নৌকা যোগে চাঁদপুর এসে মালামাল আমদানী ও রপ্তানী করতো, তখনকার আশা যাওয়ার সময় লাগত প্রায় মাস খানেকের মত,

ছোট মেঘনা নদী ছিলো ডাকাতিয়া নদীর চেয়ে একটু বড়, পুরানবাজার বাসি তৎকালীন সময় হাট বাজার করতে মূল বাণিজ্যিক এলাকায় পায়ে হেঁটে যেতে মাথার ঘাঁম মাটিতে লুটিয়ে পড়ত, আর এখনকার সময়
চোঁখ বন্দ করে এক পলেকে বাণিজ্যিক এলাকায় যেতে পারছে মানুষ , তাছারা তৎকালীন সময় মেঘনা নদী পারি দিতো হাতে বইঠা বাওয়া ডিঙি নৌকা দিয়ে, আর নদী পার হতো মাএ কয়েক মিনিটে, আর বর্তমান সময়ে ইঞ্জিল চালিত নৌকা দিয়ে মেঘনার পশ্চিম পার যেতে সময় গুনছে ৪০ মিনিট বা তার বেশি এক ঘন্টা,

বিগত স্বাধীনতার পর থেকে মেঘনার ভাঙনে আজ নদি হয়েছে রাক্ষুসী সমুদ্ররের মত, নদীর প্রবল স্রোত আর উত্তাল ঢেউ, দেখলে মনে হয় সাগর কেও হার মানায়,কেনো না ওই ছোট মেঘনা বিগত ৪০ থেকে ৪৫ বছরে ভাঙতে ভাঙতে আজ ভয়ানক রুপ দারণ করেছে, তার ভয়াণক রুপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না দুই পারের মানুষ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শরিয়তপুর আর চাঁদপুর দুই জেলার মানুষের মনে প্রাণে ভয় বৃতির মাঝে দিন কাটায়, কারন কখন যেনো রাক্ষসী মেঘনার করাল ছোবলে ভিটে মাটি হারাতে হয়, আর প্রতি বছর মেঘনার ছোবলে তার পেটের ভীতর চলে যাচ্ছে শত শত বসত ভিটে ব্যাবসা প্রতিষ্টান, সহ স্কুল, কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা, মন্দির সহ সরকারি বহু প্রতিষ্টান,

আর ভাঙন শুরু হলেই সরকারি ভাবে তাহা রোধ করতে তাৎক্ষনিক বালি বর্ত্বি বস্তা ফেলে তাহা বাঁধ দিয়ে রক্ষা করতে দেখা যায়, কিন্তু পরের বছর আবারো সেই অংশে মেঘনা ছোবল মারে, এতে করে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও রক্ষা করতে পারছে না বলে সচেতন মহল মতামত ব্যক্ত করেন, কেনো না এক পাশ ভাঙলে সরকার জোরা দেয়, কিন্তু আরেক পাশে ভাঙন লিলা খেলায় মেতে উঠে মেঘনা নদী, স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান মাল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলার ষাটনল মহনপুর থেকে চাঁদপুর শহর বাণিজ্যিক এলাকা হয়ে হাইমচরের চরভৈরবি নীল কমল পর্যন্ত হাজার হাজার ঘড় বাড়ি, বসত ভিটে কৃষি জমি মেঘনার ভাঙন কবলে পড়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে,
আবার কেউ একাদ্বিকবার ভাঙন কবলের শিকার হয়ে এই জেলা ছেরে চলে যাবারো বহু ঘটনা রয়েছে, আর বিগত বছরে একের পর এক সরকার পরিবর্তন ঘটলেও আজো ভাঙন রোধে পরিকল্পিত ভাবে স্হায়ী বাধের কোন ব্যবস্হা করা হয়নি, কিন্তু প্রতি বছর অস্হায়ী বাধে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, যার কারনে মেঘনার ভাঙন থেকে চাঁদপুর জেলা আও মুক্ত হয়নি, চলতি বছরে পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় তিন দফা মেঘনার ছোবল পড়েছে, এতে করে কয়েকটি বসত ঘর নদীর তলে বিলীন হয়েছে, আর সরকারি ভাবে তাৎক্ষনিক ভাঙন রোধে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করেছে, তার পরেও ভাঙন রোধ হয়নি,

এদিকে মেঘনার ভাঙন রোধে চাঁদপুর নদী ভাঙন সংরক্ষন কমিটি গঠন করে ভাঙন রোধে পুরানবাজার থেকে হাইমচরেও মানব বন্ধন হয়েছিলো কোন এক সময়, কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির কোন সারা নেই, কমিটি অনেকটা নিরব ভূমিকায় রয়েছে,

অপর দিকে পুরানবাজার বাসি সহ সচেতন মহল বলেন মেঘনার ভাঙন রোধে, সরকার মথমত নদীর চলাচলকে সঠিক লক্ষে নিয়ন্ত্রন করতে হবে, সরকারি ভাবে নদীর মাঝ পথে ড্রেজিং খনন করে মেঘনার পানি এক সমতলে প্রশারিত করতে হবে, তার সাথে মেঘনার বুক জুরে বালী উত্তোলন বন্দ করে সরকারি অনুমোদন কৃত ব্যবসায়িদের মাধ্যম মাঝ নদী থেকে বালি উত্তোল করলে দুই পার মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা করতে হবে, তাছারা নদীর পানি এবং স্রোত যদি মাঝ নদী দিয়ে প্রশারিত করা হয় তাহলে নৌ যানের ঢেউ গুলিও পারে আঘাত হানতে পারবে না, তাই নদীর মাঝে ভেসে উঠা ডুবো চর কে কেটে নদীর দুই পারে ফেলে, মাঝ খানে চলাচলের উপযোগী করলে নদীর ঢেউয়ের আঘাত থেকে পারের অংশ রক্ষা পাবে, একই সাথে ষাটনল মহনপুর থেকে হাইমচর চরভৈরবি এলাকা পর্যন্ত মেঘনার দুই পার স্হায়ী বাঁধের ব্যবস্হা করতে হবে তাও পরিকল্পিত ভাবে, আমরা চাঁদপুর বাসী বর্তমান সরকারের কাছে দাবি করি যে মেঘনার ভাঙন থেকে চাঁদপুর বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজার সহ পুরো জেলাকে রক্ষা করতে স্হায়ি বাধের ব্যবস্হা করে জেলাকে রক্ষা করবেন, আর স্হায়ী বাধ হলে বসবাস কারি মানুষ সব হারিয়ে যেমনি ভিটে হারা হবে না ঠিক তেমনি করে সরকার ও প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা নদীতে ব্যয় হবে না বলে মনে করেন সচেতন মহল, মেঘনার ভাঙন থেকে পুরানবাজার রক্ষা পেলে গোটা চাঁদপুর জেলা রক্ষা হবে, আর স্হায়ী বাঁধ না হলে আগামি ১০-২০ বছরে চাঁদপুর জেলা মেঘনার পানিতে থৈ থৈ করবে,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD