অশ্লীল – লেখক রাজীব কুমার দাশ

অশ্লীল – লেখক রাজীব কুমার দাশ

নিউজ ডেক্স

অশ্লীল শব্দটি সুশীল ঘরানার কাছে বেশ বেমানান, সবারই মর্যাদানাশ। কেউ কেউ প্রতিবাদে বেশ সরব। কেউ অক্ষম আক্রোশ নিয়ে অশ্লীল শব্দবোমা চুপ করে হজম করেন। হজমে অজীর্ণ হয়ে কেউ মৃদু প্রতিবাদ করে লম্ফঝম্ফ দেন।

‘অশ্লীল’ হতচ্ছাড়া শব্দটি কথিত সুশীল, রাবিন্দ্রিক ঘরানার কাছে বিরক্তিকর হলে ও বিশাল জনগোষ্ঠী এ হতচ্ছাড়া শব্দটি নিয়ে বেশ আমুদে। তারা রতি, গতি, বলা, চলা, খাবার-দাবার, হাট বাজার, এমনকি তাদের উপকারী পন্দ্রবায়ু নিমর্গনেও অশ্লীল নতুন সুখ লাভ করেন। দেশের বৃহত্তর জনগণের সমৃদ্ধ অংশ এখন অশ্লীলতা নিয়ে মামুলি ধারণা পোষণ করেন। অশ্লীলতা তাদের কাছে ডাল-ভাতের মতো। মানে অশ্লীল সাহিত্য তাদের দৈনন্দিন চলার পথের পাথেয়।

ইউটিউব, ফেসবুক, ভাইরাল শব্দের আগে ‘অশ্লীল’ শব্দের ভয়ানক বিষ্ফোরণ লুটোপুটি-লুকোচুরিতে বেদে পল্লী, বাস-ট্রাক স্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, কসাই, মুচি,পরিচ্ছন্ন কর্মি, পতিতালয়, সমাজের প্রান্তিক অনগ্রসর জনগণই বিনোদন খোরাকে আমোদিত, পুলকিত, শিহরিত হতেন। তারা এক ধরনের মনোবৈকল্য কুৎসিত আনন্দ পান। তাদের সমাজে এখনো কুৎসিত যৌনদস্যু অশ্লীল সাহিত্য গল্পবাজের অনেক কদর। গল্পের ছলে কিশোর, যুবক-যুবতী, কুলবধূর যৌন সুড়সুড়ি নিয়ে ‘যৌনদস্যু’তৈরি করেন।

এখন মোবাইল হাতে লোকমা লোকমা ভাতে যে সুশীল জেনারেশন প্রজন্ম বেড়ে চলেছে, তাদের কী হবে! মোবাইল অন করলেই পর্ন। একের পর এক স্ক্রিনে ভেসে আসছে, প্রাইভেট, বাণিজ্যিক, সীমিত, কুৎসিত হাজারো পর্ন। কথিত সুশীল বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অশ্লীল ওয়াক উগরে ঘুম ভাঙ্গার পর কালো সাদা চশমা নিয়ে রাত দুপুর পর্যন্ত ‘অশ্লীল তাড়ানো যুদ্ধে ‘হেরে ভয়ংকর যৌনযোদ্ধা সেজে (Rape Machine Gun) ঠা-ঠা-ঠা করে শেষ করে দিচ্ছে পরিবার ও সমাজের অসহায় নারীদের। এ চতুর্মুখ ভণ্ড যৌনদস্যু সারাদিন ভদ্রতার আড়ালে খুঁজে বেড়ান চরমে-চরম অশ্লীলতা।

নারীরা এখন আর হাত, পা গুঁটিয়ে বসে নেই। এঁনারা ও সুযোগের অপেক্ষা নিয়ে থাকেন। মুখে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সরব হলেও বাস্তব প্রেক্ষাপট ভিন্ন! তাদের দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। যৌনদস্যু সুশীলরা কখন, কোথায়, কিভাবে অশ্লীল যুদ্ধের অন্তরালে ‘শ্লীল’ কেড়ে সব দোষ প্রবাসী সেফাতুল্লাহ সেফুদার ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন? তা বোধগম্য হচ্ছে না। তারা মুখে মুখে সেফুদাকে গালি দিলেও শেফুদার অশ্লীল আচরণে বেশ আমোদিত পুলকিত ও বটে। অশ্লীল আনন্দ নিয়ে সেফুদার সাথে সময় কাটান।

আজ স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রে, সবাই মুচকি মুচকি পানসুখ সিগ্রেট হাতে হেসে ‘অশ্লীল’ শব্দ তাড়াতে বুকফাটা আর্তনাদে রাস্তাঘাট, টার্মিনাল দোকানপাট, মাছমাংস সবজি, কাপড় বাজার একাকার করে একটু সুযোগ পেয়ে চোখে মুখে বন্ধুত্বের টোপ, গল্পে বিয়ের টোপ, গাড়ি-বাড়ির স্বপ্ন, পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাশের টোপে (Rape machine Gun) দিয়ে রাবিন্দ্রিক, সুশীল ঘরানা চরম সুখ খোঁজেন। আসলে এ জগতে সবাই চলনে-বলনে শ্লীল হলে ও চুপিসারে বেশ অশ্লীল।

সময় ও স্রোত কারো জন্যে অপেক্ষা করে না। ‘অশ্লীল’ ভাবনা, কামনা, যাতনা জীবন চলার পথে কারোর কাম্য নয়। মনের অগোচরে সবারই কম-বেশ ভন্ডামি স্বার্থান্ধ মানসিকতা, অশ্লীল সাহিত্য নিয়ে প্রতিমুহূর্ত লুকোচুরি করে চলেছে। অশ্লীলতা নিয়ে বাণিজ্যিক আয়নাবাজি বন্ধ হলে সামনে পেছনে ডানে বামে ভন্ড মানসিকতার অবসানে জাতি অনেকদুর এগিয়ে যাবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কবি,
রাজিব কুমার দাশ
পুলিশ পরিদর্শক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD