অটোরিক্সা চালক দেলোয়ার আ.লীগে যোগ দিয়েই বেপরোয়া

অটোরিক্সা চালক দেলোয়ার আ.লীগে যোগ দিয়েই বেপরোয়া

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বছরখানেক আগেও পেশা ছিলো অটোরিক্সা চালক। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ডন বনে যান দেলোয়ার হোসেন। গড়ে তোলেন দেলোয়ার বাহিনী। এরপর থেকেই বেপরোয়া সে। এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছিলো না কেউ।

বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নুর হোসেন ওরফে বাদলকে (২৩) ঢাকা থেকে এবং দেলোয়ার হোসেনকে (২৬) নারায়ণগঞ্জ থেকে র‌্যাব গ্রেফতারের পর এলাকায় খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পদ নেই। তবুও অনৈতিকভাবে দলের প্রভাব খাটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ এ দু’জনের বিরুদ্ধে। এদের আটকের খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকায়। তাদের দ্রুত সাজা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় একন আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু এদেরকে কখনো দেখিনি আওয়ামী লীগ করতে। যারা সন্ত্রাসী কাজ করছে তারা নিজের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করে।

নোয়াখালী বেগমগঞ্জ এখলাসপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ‌আরেক সদস্য বলেন, আলমগীর কবির আলো এই দেলোয়ারকে যোগদান করিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। এরপর থেকে এলাকায় অপকর্ম বেড়ে গেছে।

এদিকে র‍্যাবের দাবি, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর করা মামলার এজাহারে দেলোয়ারের নাম না থাকলেও আসামিরা সবাই তারই লোক। তারা একত্রে চলাফেলা করেন এবং নানা অপকর্ম করে বেড়ান। এছাড়াও আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে থেকেই একাধিক খুন ও মাদক মামলার আসামি দেলোয়ার।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানায়, এ ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে দেলোয়ার ও বাদলকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, এই দেলোয়ার স্থানীয় মানুষের কাছে একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার অন্য সহযোগীরা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নারীদের ‍উত্ত্যক্ত করতো। এই দেলোয়ার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা চাঁদাবাজি, অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি, মাদক ব্যবসা, হুমকি ধমকি দিয়ে টাকা আদায় করতো। ওই রাতে যে নারীকে নির্যাতন করা হয়েছে তাকে নির্যাতনের ঘটনা ভিডিও করে পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আাদায় করার পরিকল্পনা ছিলো। আমরা প্রাথমিকভাবে যতটুকু জেনেছি তারা প্রত্যেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছে। আমরা বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘরে ঢুকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার প্রায় এক মাস পর গত রোববার (৪ অক্টোবর) ফেসবুকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়। ওই ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD