চাঁদপুরে আবারও একই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন

চাঁদপুরে আবারও একই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরে আবারও একই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন অবস্হায় জীবন- মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কাতরাচ্ছে। এ ঘটনায় শহর জুড়ে চলছে তোলপাড়।

চাঁদপুরে ডাক্তার নাজমুন নাহারের ভুল চিকিৎসায় কিছু দিন পূর্বে শহরের একটি হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই, আবারো ইউনাইটেড হাসপাতালে ডাক্তার নাজমুন নাহারের ভুল চিকিৎসায় আরো এক প্রসুতি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের দিনমজুর জহির গাজীর স্ত্রী তাসলিমা বেগম ৮ ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে প্রসব বেদনা নিয়ে বেলা তিনটায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন।

এই বিষয়ে ভিকটিমের ভাগিনা সাইফুল ইসলাম জানান গাইনি ডাক্তার নাজমুন নাহার আমার মামিকে সিজার করে। আমার মামিকে সিজার করার আগে মামি নাজমুল নাহারকে বলেন আমার জরায়ুতে সমস্যা আছে, আপনি আগে জরায়ুর চিকিৎসা করেন। তখন ডাক্তার বলল, যে আমি সিজার করার মালিক সিজার করি, কোন সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েই সিজার করে ফেলে।

সিজার করার পর পরই নাজমুন্নাহার আমাদেরকে বলে রোগীকে বাঁচাতে হলে জরুরী ভিত্তিতে দশ ব্যাগের উপরে ব্লাড লাগবে, আমরা বহু কষ্ট করে করে সাত-আট ব্যাগ ব্লাড সংগ্রহ করি। আমার মামির অবস্থা খারাপ দেখে ইউনাইটেড হাসপাতাল তাকে ঢাকায় রেফার করে দেয়। এই করোনা কালীন সময়ে মারাত্মক অবস্থায় মামানিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে অতি দ্রুত জরায়ুর সিজার করাই। অবস্থার আরো অবনতি হলে কুমিল্লা থেকে মামানিকে আবার ঢাকা রেফার করেন। আমরা হয়ে যাই হতাশ। অন্যদিকে মামানির অবস্থা বেগতিক দেখে মামা কিছুক্ষণ পর পর অজ্ঞান হয়ে যায়।

ঢাকার কোথায়ও ভর্তি করাতে না পেরে নারায়ণগঞ্জ প্রো- অ্যাক্টিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের এনে লাইফ সাপোর্টে রাখি।

মামি কে বাঁচানোর জন্য মামা তার ভিটে-মাটি পর্যন্ত বিক্রি করে। এযাবৎ ৫/৬ লাখ টাকা খরচ করে ফেলি। এ হাসপাতলে ব্যয় ভার বেশি হওয়ায় রুগীনি তাসলিমাকে আবার এনে ভর্তি করাই চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে।

রোগিনীর বর্তমান অবস্থা ডিউটি ডাক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ভিকটিম তাসলিমা বেগম জানান আমার আগে থেকেই জরায়ুতে সমস্যা ছিল। এই কথাটি ডাক্তার নাজমুন নাহার কে বলেছি। তখন তিনি বললেন আপনার সিজার করলে কোন সমস্যা হবেনা জরায়ুতে এই বলে আমাকে অচেতন করে সিজার করে ফেলে। উনার ভুল চিকিৎসার কারণে আমি চাঁদপুর-কুমিল্লা, ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলাম। আমি এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আজ অনেকদিন যাবৎ আমি আমার ছেলে সন্তানদেরকে দেখতে পাইনি।

এ বিষয়ে শহরের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতামত হল জরায়ু সমস্যার জন্য হিস্টেকটমি সার্জেন্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জরায়ুর সমস্যা জেনেও প্রসূতিকে জরায়ুর সার্জেন্ট ছাড়া গায়ের জোরে সিজার করলেন কেন ডাক্তার নাজমুন নাহার ?
এমতাবস্হায় সিজার করার সিদ্ধান্তটা তার সঠিক হয়নি বলে মতামত ব্যক্ত করেন অভিজ্ঞ ডাক্তারগন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনার দিন ডাক্তার নাজমুন নাহারের সাথে থাকা অপারেশন থিয়েটারে ডিউটিতে থাকা কমিউনিটি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট জানান, হিস্টেকটমি সার্জেন্ট ছাড৩ড়া এ সিজারটা করা ওনার উচিত হয়নি। তিনি জানান ডাক্তার নাজমুন নাহার প্রসুতির পেট কাটার পরে, হাসপাতালের এসিস্টেন্টদের জানান জরায়ু সার্জেনের প্রয়োজন।

এবং ২ মাস পূর্বের আলট্রাসনোগ্রাম দেখে কিভাবে তিনি সিজারের সিদ্ধান্ত নিলেন,এমনটাই জানালেন ইউনাইটেড হসপিটালের এ কর্মকর্তা।

তখন আর কোন সার্জেন্ট না পেয়ে রোগীকে মৃত্যুর দরজা ঠেলে দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন ডাক্তার নাজমুন নাহার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার নাজমুন নাহারের সন্ধানে বের হলে তাকে পাওয়া যায় চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখা মোড় সংলগ্ন আস্থা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন রোগীকে আমি দেখার পরে মনে হচ্ছিল তাকে সিজার করা যাবে, তাই আমি তাকে সিজার করি। পরে দেখি রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমি এটাও বলেছি যে, আপনারা যদি চান তা,হলে হিস্টেকটমি সার্জন আনতে পারেন। এটা আমি ওটি তে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেছি।তার শরীরে রক্ত লাগবে বলে রোগীর আত্মীয়দের কে বলি। তিনি আরও বলেন রোগীর এত কিছু জানা সত্ত্বেও আমার সিজার করাটা ঠিক হয়নি এবং এটা আমার ভুল হয়েছে বলে ডাক্তার নাজমুন নাহার অকপটে স্বীকারও করলেন। এবং এমনও বলেন ভবিষ্যতে এমন ক্রিটিকাল রোগীর আমি আর সিজার করবোনা,এরুপ রোগী আসলে ঢাকায় রেফার করে দিবো।

রোগীকে চিকিৎসার জন্য আমি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত , তবে এই মুহূর্তে আমি পাচ্ছি না আমার বাবা মারা যাওয়ার কারণে আমার বেশ কিছু টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। আমি দু-তিন দিনের মধ্যে চেকের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসার জন্য ভালো একটা সহযোগিতা করবো বলে রোগীর পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। দু-তিনদিন তো দূরের কথা মাস পেরিয়ে গেলও কথা রাখেনি ডাক্তার নাজমুন নাহার। বরং গাঁ ডাকা দিয়ে বেশ কিছু দিন সময় ছিলেন অনুপস্থিত। আর আস্হা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষ আলম মিয়া দরকষাকষিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এ প্রতিবেদক ডাক্তারদের সংগঠন বি এম এ এর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী মাসুম কে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন আমি ডাঃ নাজমুন নাহার, আলম সহ রোগিনীর অভিভাবকের সাথে বসে মিমাংসা করে দেবো।

অপর দিকে রোগিনী পক্ষের অভিযোগ যে, আস্হার ডায়াগনস্টিক এর মালিকপক্ষ আলম মিয়া তালবাহানা করে রোগিনীর আতœীয় স্বজনদের অমানুষীক হয়রানি করেছে। সমঝোতার নামে সে রোগীর পক্ষ কে ৭/৮ বার তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এনে এনে বসিয়ে রেখেছে। কিন্তু সে নিজের দায়ীত্বে কয়েকবার দেন দরবার করেও চলছাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকারের চেষ্টা করছে বলে জানান ভুক্তভুগী। বরং অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রশাসন দিয়ে হেনস্থা করার হুমকি দিয়ে আসছে।

অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রসুতির জন্য শহরের রাজনৈতিক ওয় অসামাজিক ব্যক্তিবর্গ সমাধানের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা যেনো কাউকেই তোয়াক্কা করে না। তাই শহরের সচেতন মহলের দাবি তদন্তপূর্বক ডাক্তার নাজমুন নাহার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিচারের মুখোমুখি এনে সভ্যতার এই সময় অনুধাবন করার বিষয়ে তাদের যেনো দৃষ্টান্তমূলক জানান দেওয়া হয়।অসহায় দিন মজুর জহিরের স্ত্রী প্রসুতি সালমা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর প্রহর গুনছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD