বাবুরহাটে বখাটে শান্ত শেখের কারনে তরুণীর আত্মহত্যা

বাবুরহাটে বখাটে শান্ত শেখের কারনে তরুণীর আত্মহত্যা

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর শহরের ১৪নং ওয়ার্ডস্থ বাবুরহাট এলাকার মন্টু শেখের বখাটে ছেলে শান্ত শেখের কারণে ১৬ বছর বয়সী ঝুমুর আক্তারের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ ঘরের আড়ার সাথে গায়ের উড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন নাবালিকা ঝুমুর আক্তার। ঘটনাটি ঘটেছে বাবুরহাটস্থ শেখ বাড়ির আবুল কালাম আজাদ শেখের বাড়িতে। ঘটনার বিবরণে আত্মহননকারী ওই তরুনীর মায়ের কাছ থেকে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর বুধবার বিশেষ কাজে তিনি ঢাকায় যান তার বড় ভাইয়ের বাসায় ঝুমুর আক্তার ও তার ছোট মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১০)কে বাসায় রেখে। সে সুযোগে একই এলাকার মন্টু শেখের বখাটে ছেলে শান্ত শেখ ওই ঝুমুরের ঘরে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে যায়। বখাটে শান্ত শেখের ঘরে ঢুকাতে ঝুমুর আক্তার তাকে বারংবার বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বললে সে কোন কথার তোয়াক্কা না করে ঘরেই ঘাপটি মেরে বসে থাকে। ঝুমুর আক্তার এক পর্যায়ে মান সম্মানের ভয়ে তার ছোট বোন সামিয়াকে সাথে নিয়ে ভিতরের কক্ষে চলে গেছে ওই বখাটে শান্ত শেখ সেখানেও গিয়ে বসে। এমন সময় ওই বাড়ির মালিক আবুল কালাম আজাদ ভিতরে কেউ কথা বলছে আন্দজ করে ছোট মেয়ে সামিয়াকে জিজ্ঞেস করে, কিরে তোদের মা বাড়িতে নাই তোদের রুমে কে কথা বলে? সামিয়া উত্তরে বলে শান্ত ভাই আমাদের ঘরে এসে ঢুকেছে উনাকে বলছি বেরিয়ে যেতে উনি বের হচ্ছে না। তখন বাড়িওয়ালা নিজের ঘরের তালা এনে ঝুমুরদের বেরোনোর দরজাটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং তাৎক্ষনিক ঝুমুরের মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলে আপনার ঘরে একটি ছেলে ঢুকেছে আমি তাকে তালা দিয়ে রেখেছি আপনার স্বামী বাসায় এসে আমার কাছ থেকে ছাবি নিয়ে দরজা খুলতে বলবেন এবং তিনি আরো বলেন, আপনি ত্রিপল নাইন এ কল দিয়ে পুলিশ এনে ওকে ঘর থেকে বের করেন। উক্তরে ঝুমুরের মা বলেন, ভাই আপনি ওই ছেলের বাবা-মাকে বিষয়টি বলে তাদের এনে দেখান এবং আমার স্বামীকে কল দিচ্ছি সেও আসতেছে এবং আমি সকালে আসতেছি। এসময় পাশের ভাড়াটিয়ারা বিষয়টি জানতে পেরে হৈ হুল্লুড় করতে থাকে এতে চারপাশে জানাজানি হলে এক পর্যায়ে ওই বখাটে ছেলের মা ঘটনাস্থলে এসে বাড়ির মালিককে বলতে থাকে আমার ছেলেকে এখানে আটকে রেখেছেন কেন, ওকে ছেড়ে দিন। অন্যদিকে বখাটে শান্ত শেখ ঘরের ভিতর থেকে বাড়ির মালিককে গালিগালাজ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে ঘরে দরজা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলে। বাড়ির মালিক আবুল কালাম আজাদ বখাটে শান্ত শেখের মাকে বলেন, আপনার বখাটে ছেলে ওদের ঘরে কেন ঢুকলো, তাদের বাসায় কেউ নাই। তাই যদি কোন ক্ষতি করে ফেলে সে কারণে আমি ওকে তালা দিয়েছি। তখন বখাটে ছেলের মা জোরজবরদস্তি করে ছেলেকে জিম্মাদার হয়ে উদ্বার করে ভোর হলে এর একটা সুরহা করবে মর্মে। এতে ঝুমুর প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়, তার মা আসলে তাকে কি জবাব দিবে, তাকে এভাবে ওই বখাটে শান্ত অপমান করলো, পাড়ার লোকজন কি বলবে? ইত্যাদি চিন্তা তার মাথায় ঢুকে। এদিকে ঝুমুরের বাবা বাড়িতে আসলে সে ঝুমুরকে কিছুই না বলে তাদের নিয়ে ভিতরের রুমে ঢুকে তাদেরকে কোন প্রশ্ন না করে বলে তোমরা ঘুমাও আমার খাটে আমি টিভি দেখছি। অন্যদিকে এটাও তার মাথায় ঢুকে গেছে আমার মেয়ে ছোট মানুষ, এ অপমান সহ্য করতে না পেরে যদি কোন কিছু করে ফেলে তাহলেতো আর আমি মেয়ে পাবো না। এ ভেবে ঝুমুরের বাবা আনোয়ার সারারাত না ঘুমিয়ে চিন্তা চিন্তা কাটিয়ে দেয় রাত পোহালে মেয়ের মা বাড়িতে আসবে আবার ওই বখাটে ছেলে অভিভাবকরাও আসবে তারপর যা বলার বলবো। এই বলে সে সারারাত মেয়ের শয্যার পাশে বসে থাকে। অন্যদিকে ঝুমুরের বাবা ওই বখাটে ছেলের অভিভাবকের অপেক্ষায়ও করে বাড়িতে। এদিকে ঝুমুর সকালে বাবার জন্য নাস্তা তৈরি করলে ঝুমুরের বাবা নাস্তা খেয়ে বাড়ি থেকে আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে আর কারো জন্য অপেক্ষা না করে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং ছোট মেয়েকে বলে যায় ঝুমুর যেন বাড়ির বাহিরে না যায়, তোর মা আসার আগ পর্যন্ত ওর দিকে নজর রাখবি এবং একই বাড়ির বাকি ভাড়াটিয়া এমনকি বাড়িওয়ালাকে বলে যায়।

ঝুমুরের বাবা বাড়ি থেকে বের হলে বেশ ভালোই ঝুমুর ঘরের ভিতর হাটা চলা করছে এক পর্যায়ে ঝুমুর তার ছোট বোনকে বলে ওই তুই বাইরে থেকে খেলে আস আমার শরীরটা ভালো লাগেনা আমি ঘুমাবো। তখন ঝুমুরের ছোটবোন রাজি না হলে ঝুমুর তার ছোটবোনকে একটি চড় মারে এতে সামিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। সামিয়া বাড়ির ভিতরে খেলাধুলার এক পর্যায়ে তাদের বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া সামিয়াকে নুডুলস খেতে দিলে সে নুডুলস খায় এবং পানি খেতে তাদের ঘরে যায়, গিয়ে দেখে দরজা বন্ধ। তখন সামিয়া তার বোন ঝুমুরকে ডাকতে থাকে আপু দরজা খুল আমি পানি খাবো, এ বলে বহু ডাকাডাকির পরও ঝুমুর দরজা খুলে নি। পরে সামিয়া বাড়ির লোকজনকে বলতে থাকে আমার আপু দরজা খুলছে না কেন বললে বাড়ির লোকজন এসে ঝুমুরের দরজা নাড়তে থাকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা জানালা দিয়ে উকি মেরে দেখতে পায় ঝুমুর ঘরের আড়ার সাথে শরিরের ওড়না পেছিয়ে ঝুলে আছে। তখন ডাকচিৎকার পড়ে গেলে আশে পাশে বাড়ির লোকজন এসে জড়ো হলে বাড়ির মালিক চাঁদপুর মডেল থাকানে বিষয়টি অবহিত করলে,

চাঁদপুর মডেল থানা থেকে এসআই শামিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুমুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং স্থানীয়দের সাহায্যে লাশ মাটিয়ে নামায়। এরপর আশে পাশের এবং বাড়ির সকলকে জিজ্ঞেস করে কি কারণে এমন হয়েছে? উত্তরে সবাই বলে গতরাতে একই বাড়ির মন্টু শেখের বখাটে ছেলে শান্ত শেখ জোরপূর্বক ওর বাসা খালি পেয়ে ঢুকে যায় এবং তাকের বাহির থেকে তালা দিয়ে আটকানো হয়, পরবর্তীতে ওই বখাটে ছেলে মা এসে তাকে জোরজবরদস্তি করে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ওর ঘরে ঢুকাকে অপমানবোধ করে পাড়ার লোককে মুখ দেখাতে পারবে না বলে হয়তো এমনটি করতে পারে। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো।

ঘটনার বিবরণে জানা যায, ঝুমুর আক্তারের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বখাটে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার এক পর্যায়ে গত ৯ অথবা ১০ মাস আগে ওই বখাটে শান্ত শেখ ঝুমুরকে ফুলিয়ে ঘর নিয়ে যায়, খরব পেয়ে বখাটে শান্ত শেখের বাবা রাজধানী ঢাকা তার বোনের বাসা থেকে ওইদিনই তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর নিয়ে আসে। সেসময় বখাটে শান্ত শেখের বাবা মন্টু শেখ ঝুমুরের মা-বাবাকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হুমকি দমকি দিয়ে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে মুখ খুলতে না বলে ছেড়ে দেয়। স্থানীয় মিমাংসাকারীরা তখন শর্ত দেয় আজকের পর থেকে আর কোন দিন আপনার মেয়ে অর্থাৎ ঝুমুর আক্তার শান্ত শেখের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখতে পারবে না। যদি রাখে তাহলে আপনাদের এলাকা ছাড়া করা হবে এবং পানিশম্যান্ট দেয়া হবে। তার পর থেকে গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঝুমুর আর শান্ত শেখের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখেনা। তারপরও বখাটে শান্ত শেখ বারং বারং বার ঝুমুরকে বিরক্ত করতো পথে ঘাটে। পরে শেষে ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঝুমুরের মা বাসা না থাকায় সে সুযোগে সে ঝুমুরের ঘরে ঢুকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD