ভারতের ‘সাইক্লোন ম্যান’, যিনি বশ করতে পারেন ঘূর্ণিঝড়কে, মিলে যায় প্রতিটি ভবিষ্যৎবাণী

ভারতের ‘সাইক্লোন ম্যান’, যিনি বশ করতে পারেন ঘূর্ণিঝড়কে, মিলে যায় প্রতিটি ভবিষ্যৎবাণী

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতের ‘সাইক্লোন ম্যান’, যিনি বশ করতে পারেন ঘূর্ণিঝড়কে, মিলে যায় প্রতিটি ভবিষ্যৎবাণী

আবহাওয়া, এমন একটি বিষয় যা আপনার দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপ বা প্ল্যানকে সম্পূর্ণ উল্টে পাল্টে দিতে পারে। আর এই আবহাওয়া বিজ্ঞানকেই ভীষন ভাবে রপ্ত করে ফেলেছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। সুপারম্যান না হতে পারলেও আজ তিনি ভারতের সাইক্লোন ম্যান। হ্যা, ২০০৮ সাল থেকে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের একদম সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার ফলে আজ তিনি এই নামেই জনপ্রিয়।

ফাইলিন, হুদহুদ, তিতলি, মেকুনু, ফণি ইত্যাদি ঘূর্ণিঝড় গুলির সঠিক সময় সঠিক পূর্বাভাসের ফলে আগাম সতর্ক হতে পেরেছিল রাজ্যগুলি।গতবছর মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ফনির আগাম পূর্বাভাস এবং সম্ভাব্য গতিপথ সঠিকভাবে বর্ণনা করার ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফ থেকেও প্রশংসা পান তিনি। কেননা সেই পূর্বাভাসের জন্যই সরকার আগাম সতর্ক হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করে, ফলস্বরূপ অনেক প্রাণ বেঁচে যায়।

তবে তার এই নির্ভুল পূর্বাভাসের কৃতিত্ব তিনি উন্নত প্রযুক্তিকে দিয়েছেন। ২৭ বছর ধরে আবহবিজ্ঞানকেই পেশা হিসেবে বহন করছেন তিনি।বর্তমানে ভারতের অবহবিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

তার জ্ঞানের ফলেই ২০০৮ সাল থেকে এভাবেই একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হচ্ছে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ শাখা। বঙ্গোপসগর, আরবসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় এলাকার যে দেশগুলির দ্বারা ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয় তাদের প্রশংসাও কুড়িয়ে নেয় ভারত।

তার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৯২ সালে পুণের আবহ দফতরে।তারপরে তিনি আরও কিছুদিন কাজ করেন ওড়িশার বালাসোরে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে।তারপরই ২০০৮ সালে তিনি ভারতীয় আবহবিজ্ঞান শাখার আঞ্চিলক বিশেষজ্ঞ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন। তারপর থেকেই একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ, গতিবেগ, সময়কাল ইত্যাদি সম্পর্কে নির্ভুল আপডেট দেন তিনি।

অবশ্য এক্ষেত্রে তিনি বলেন যে ২০০৮ সালের পরে প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্যই তিনি এই কাজ করতে সক্ষম হন। ১১ বছর সেই পদে কাজ করার পর ২০১৯ সালের আগস্ট মাস থেকে পাঁচ বছরের জন্য তিনি ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।২০১৩ সালে WMO-এর এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও তিনি নির্বাচিত হন।

তার মতে ঘূর্ণিঝড় ফনির সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া তাদের জন্য একটি বড় ঘটনা ছিল কারণ অন্যসব এজেন্সির দাবি ছিল ফনি ৩৪০ কিলোমিটার বেগে আছরে পড়তে চলেছিল কিন্তু ভারতীয় অবহ্বিজ্ঞান দফতর ঝড়ের গতিবেগ বলেছিল ২২০ কিলোমিটার এবং শেষপর্যন্ত সেই গতিবেগেই আছরে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ফনি।

বর্তমানে প্রযুক্তি উন্নত হওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় তিনটি করে ঝড় সম্বন্ধীয় বুলেটিন প্রকাশ করা হয়। অন্তত পাঁচদিন আগে থেকেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।এইসব কারণে বর্তমানে সাধারণ মানুষ ও সরকার সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD