চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বাত্মক লকডাউন, সীমান্ত ও গ্রামে নজরদারি জরুরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বাত্মক লকডাউন, সীমান্ত ও গ্রামে নজরদারি জরুরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

করোনা সংক্রমণ বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাতদিনের পূর্ণাঙ্গ লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

লকডাউনের প্রথম দিন মঙ্গলবার (২৫ মে) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা শহরের বিশ্বরোড, শান্তিমোড়, পিটিআই, বারঘরিয়াসহ প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশের অবস্থানের পাশাপাশি ছিল পুলিশের টহল।
এর আগে বিভিন্ন সময় জারি করা লকডাউনে রাস্তায় মানুষের জটলা লক্ষ্য করা গেলেও বিশেষ এ লকডাউনের চিত্র ছিল সম্পূর্ন ভিন্ন।

লকডাউনের আওতাধীন কোনো যানবাহন, দোকানপাট খোলা ছিল না। তবে মফস্বল এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছেন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন দোকানপাট খোলা রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবং জেলার মানুষকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে কঠোর লকডাউন শহরগুলোর পাশাপাশি গ্রাম ও সীমান্তে এবং বন্দর এলাকায় বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন সচেতন জনগণ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তিমোড়ের প্রধান সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেডের পাশাপাশি অকারণে রাস্তায় বের হলেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।

জেলা সদরে সাতটি মোবাইল টিম এবং বাকি চার উপজেলায় প্রায় ১০টি মোবাইল টিম লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

তাবাসসুম ডায়াগনস্টিক ও ডেন্টাল কেয়ারের মালিক ডা. নুর এলাহী জানান, তিনি বাড়ি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে আসার সময় তিনবার পুলিশি জেরার মুখে পড়েন। এ ধরনের লকডাউন চলমান থাকলে করোনার সংক্রমণের গতিতে লাগাম টানা সম্ভব বলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হুদা অলোক বিশেষ এ লকডাউন করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির আগেই দেওয়া প্রয়োজন ছিল দাবি করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে লকডাউন আরও বৃদ্ধি করে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে এ ধরনের কঠোর লকডাউনের বিকল্প নাই।

গত এক সপ্তাহে সংক্রমণ এত বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ ৩০ ভাগ বেড়ে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ঠেকেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন দেড়শ’ জন। আর মারা গেছেন সাতজন। সীমান্তে কঠোর নজরদারি না থাকা, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, ধান কাটা শ্রমিকদের বিভিন্ন জেলা ঘুরে বাড়ি ফেরা এবং ঈদে জেলার বাইরে থেকে এসে অনেকের বেপরোয়া চলাচলই এর জন্য দায়ী।

এদিকে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনা মসজিদ। এ বন্দরে প্রতিদিন চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে প্রবেশ করে। সঙ্গে এর চালক ও সহকারীরা আসছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের প্রবেশ করানো হলেও বন্দরে প্রবেশের পর তারা নজরদারিতে থাকেন না।

অন্যদিকে, এ বন্দরের বাংলাদেশি দেড় হাজার শ্রমিকও স্বাস্থ্যবিধি মানতে চান না। এতে করে বন্দর এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্দরের ম্যানেজার মাঈনুল ইসলাম দাবি করেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে ভারতীয়দের মেশার কোনো সুযোগ নাই। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রথম এ বন্দর এলাকায় জীবাণুনাশক টানেল স্থাপনসহ স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

করোনা ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. নাহিদ মুন জানান, তিনি বরাবরই বলে আসছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জকে লকডাউনের আওতায় আনতে। তবে একটু বিলম্ব হলেও কঠোর এ লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবে। তবে সোনা মসজিদ বন্দর দিয়ে যাত্রী আসা বন্ধ, ভারতীয় ট্রাকগুলো নজরদারিতে আনা এবং সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারিও দরকার।

সচেতন নাগরিক সমাজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল রেজা জানান, সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবে আগতদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসন তৎপর হলেও অবৈধভাবে আগতদের ব্যাপারে প্রশাসন উদাসীন। সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করতে না পারলে কঠোর লকডাউনের ফলাফল শূন্য।

আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ প্রয়োজনে লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে জানান, রাত থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে। রাতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় ২৮ জনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে অন্তত ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত রয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু’টি বিজিবি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্দরে ট্রাকচালকদের নজরদারির বিষয়ে তিনি জানান, ভারতীয় ট্রাকচালকদের নিজ ট্রাকে বা নির্দিষ্ট স্থানে থাকার নির্দেশনা আছে। এরপরও কোনো ভারতীয় নির্দেশনা মানছে কিনা, তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।

সারাদেশে বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। তবে এর মধ্যেও জনস্বার্থে চালু রয়েছে আকাশ, নৌ ও সড়ক পথের সব ধরনের বাহন। কিন্তু এ জেলায় করোনার প্রকোপ বাড়ায় সোমবার (২৪ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে পুরো জেলায় সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD