গ্রাম  পুলিশের গল্প । অমিত পর্ব দুই

গ্রাম  পুলিশের গল্প । অমিত পর্ব দুই

সিলেট প্রতিনিধ

হাতে চা টে , সিগারেট পান সুপারি সহ যাবতীয় জিনিস ।রাগ করে বসে আছেন চেয়ারম্যান, এদিকে সিদ্দিক মাদক ব্যবসায়ী র বাবা বললো কিরে সকিদার,এই সাধারণ জিনিস আনতে এতো সময় পার হলো,তুই কিভাবে চকিদার হলে।অমিত মুখ বুঝে সব সহ্য করছে,তার কাজ করেই যাচ্ছে ।তার পর চেয়ারম্যান বললেন বুঝতে পারছি কি হচ্ছে, ও সব থাক পরে বুঝবো।আমার একটি জরুরি কল আসছে আমি উপজেলায় যেতে হবে।চেয়ারম্যান সাহেব উপজেলায় চলে গেলেন,এখন তো চেয়ারম্যান রুমে কেউ থাকার মতো নয়।সিদ্দিকির বাবা আরো কিছু সংগি নিয়ে সচিবের রুমে গিয়ে বসলো।কিছু আলাপ আলোচনার পরে হটাৎ বললো সচিব সাহেব চা পান খাওনো যাবে তো।এটা তো লজ্জার বিষয়, একজন বাবার বয়সী লোক বলছেন কিছু খাবেন তা তো অবশ্যই ।অমিত কোথায়, অমিত ডাক দিতেই সামনে হাজির হতে হবে, বারান্দায় ছিলো অমিত ডাক শুনেই রওনা দিলো সচিবের রুমে।হটাৎ একজন পিছনে ডেকে মিনতি করে বলছে ভাই, আমি মহা বিপদে।দয়া করে চেয়ারম্যান সাহেব এর নাম্বার টি দেন।তখন অমিত বলছে ভাই সচিব সাহেব ডাকছেন,পরে দেই লোকটি প্রায় কান্না কান্না ভাব।এসব দেখে অমিত গ্রাম পুলিশ বাবু তাহাকে নাম্বার টি আগে দেওয়া জরুরি ভেবে নাম্বার টি দিতে লাগলো ।হটাৎ সচিবের রুমে থেকে বাহিরে এসে একজন লোক বলছে এই বেটা বধির,তুই ডাক শুনতে পারিছ না, আগে ভাবছিলাম নেশা কুর,এখন দেখছি শালা তুই কানে কম শুনিছ ।যাক বুঝতে পারছেন আপনারা এখানে কি হবে,তবু ও বলছি।সচিব সাহেবের রুমে যাওয়া মাত্র সচিব বলছেন কিরে কালের বাচ্চা, এই পাশে থেকে এতো ডাক দেই শুনতে পারিছ না।অমিত কিছু বলতে চাইছিলো, মুখ থেকে কথা নিয়ে সিদ্দিকির বাবা বললো, আর বলতে হবেনা তুই তো আসলে একটা বেয়াদব ।তুই ইউনিয়ন অফিসে থাকলে তো ইউনিয়ন অফিস মাটির নিচে চলে যাবে।একটু আগে চেয়ারম্যানের সাথে ও বেয়াদবি করছিস ।প্রায় অমিত নির্যাতনের যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছে, বলছে সচিব কে ,ছড়ি sir কি সের জন্য ডাকছেন।সচিব বলছেন ভূল করে ছড়ি বললে সমাধান হয় না, একটু শেখো এবং এরাই হচ্ছে বাবার সমবয়সী মুরববী ।এরা সম্মানের পাত্র,এরাই আমাদের থেকে সম্মান না পেলে আমাদের অফিস কলংঙকিত হবে।অমিত গ্রাম পুলিশ:ইয়েছ sir: ,পূর্বের মতো আবার সে বাজারে গিয়ে এসব নিয়ে আসলো।একটু পর পর চোখের পানি আসে অমিতের চোখে, কাউকে বুঝতে না দিয়ে মুছে নেয় চোখেটর কষ্টের পানি।তখন বিকাল তিনটা বাজে ।হটাৎ অমিতের মোবাইলে একটা কল আসলো , চেয়ে দেখে ওর ইউনিয়নের পুলিশ বিট অফিসার ।এই অমিত ,অমিত:আদাব sir,পুলিশ অফিসার:অমিত তুমি কোথায়,অ:আমি ইউনিয়ন অফিসে sir.পু:পাশের বাইট হালি গ্রামের দু পক্ষের মধ্যে শুনতে পারছি মারামারি সৃষ্টির ভাব।অবস্থা টা কি রকম জায়গায় গিয়ে একটু জানাও (কুইক)সচিবের কাছে বলে ছোটলো বাইট হালি গ্রামের উদ্দেশে ।ভাগ্যর পরিহাস, অমিত একটি গাড়ি পাইছিলো ।কিন্তু গাড়ির পাশে দৌড়ে গেলে ও হটাৎ স্বরণ হলো তার পকেটে এক টাকা ও নাই।বাইট হালি গ্রামের পাশ বাঁকা রাস্তা পেরিয়ে যেতে পনেরো টাকা লাগে ।কি করবে চিন্তা ভাবনা করে লাভ কি এটা তো ডিউটি ।সোজা মাঠ পথে ক্ষেতের আড়ালে আড়ালে কাঁদার উপর দিয়ে হেঁটে বাইট হালি গ্রামে পৌছে গেলো।গ্রামের সব পরিস্থিতি দেখে অমিত গ্রাম পুলিশ এসআই মুখতার সাহেব কে জরুরি আসার জন্য অনুরোধ করলো ।পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হয়ে মারা মারি নিয়ন্ত্রণে এনে সবাই শান্ত অবস্থা ।এর মধ্যে পুলিশ কিছু দুষি চেয়ে কয়েক জনকে থানায় নিয়ে গেলো।তারাউরা অবস্থা, বিট অফিসার অমিতের সাথে কিছু আলাপ করতে পারেন না ।নয়তো কিছু টাকা বকসিস দিতেন,হটাৎ ফোন দিয়ে এসআই সাহেব বললেন অমিত আমি তোমার দেখা করার সুযোগ পাই না , এ যে অবস্থা হয়ে ছিলো সেটা তো দেখতে পাচ্ছো ।অমিত এখন কি করবে, রাত প্রায় আটটা বেজে গেছে ।টাকা তো পকেটে নাই, এর মধ্যে ঐ গ্রামের একজনের সাথে বসে অমিত বললো ; একটা সিগারেট হবে নাকি দাদা ।বাইট হালি গ্রামের লোকটি বললো ভাই একটা কেনো দশটি সিগারেট নেন, আজ যে ভয়ংকর মারামারি থেকে এই গ্রাম রক্ষা পেল শুধু আপনার কারণে ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।অমিত একটা সিগারেট পেয়ে মৃদু হাসি দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে টান দিয়ে বলছে, আসি দাদা রাত হচ্ছে ।

ধারাবাহিক পর্বের আজ দুই পর্ব চলমান

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD