আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডার ববিতার লাশ দাফন।

আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডার ববিতার লাশ দাফন।

নওঁগা প্রতিনিধি

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ববিতা মামু নামে পরিচত এক ট্রান্সজেন্ডার ছেলের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান কমিটির বাধার কারণে সেখানে দাফন করা সম্ভব হয়নি।

তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রায় ৪১ ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় বৃহস্পতিবার বাদ আসর উপজেলার সরকারি কবরস্থানে মরদেহ দাফন করে আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগ।
স্থানীয় লোকজন ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আত্রাই রেলওয়ে কলোনিতে প্রায় ১৬ বছর ধরে বসবাস নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা গ্রামের মৃত আকালার আলীর ছেলে ট্রান্সজেন্ডার ববিতার। সবাই তাকে ববিতা মামু বলেই ডাকত।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নিজ ঘরে বিষপানে আত্মহত্যা করেন ৪০ বছর বয়সী ববিতা। সেই ঘরে তিনি একাই থাকতেন। বুধবার সকালে খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে আত্রাই থানা-পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ দাফন নিয়ে বিপাকে পড়ে পুলিশ। রেল কলোনি সংলগ্ন ভরতেঁতুলিয়া কবরস্থান কমিটি জানিয়ে দেয় তাকে সেখানে দাফন করতে দেয়া হবে না। নাটোরের স্বজনরাও মরদেহ নিতে রাজি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহদী মসনদ স্বরূপ সহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
সাংবাদিকদের স্বরূপ বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল ভাইয়ের উদ্যোগে লক ডাউন এর মাঝে প্রতিদিনের ন্যায় গত মঙ্গলবার দুপুরে কর্মহীন মানুষদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করছিলাম রেলওয়ে এলাকায়। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ববিতার আত্মহত্যার খবর শুনে তার বাড়ি ছুটে যাই। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হবে না। পরিবারও মরদেহ গ্রহণ করবে না। এমপি মহোদয় যেভাবেই হোক মরদেহটি দাফনের ব্যবস্থা করতে বলেন। অনেক চেষ্টা করে বৃহস্পতিবার বাদ আসর সরকারি কবরস্থানে দাফন করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘ববিতা আওয়ামী লীগের কর্মী ছিল। সব আয়োজনে উপস্থিত থাকত। হয়তো তার সঙ্গে কোনো অন্যায় হয়েছে। যে কারণে নিজের জীবনকে এভাবে শেষ করে দিল। পুলিশের কাছে অনুরোধ, ববিতা কেন আত্মহত্যা করল তার কারণ যেন খুঁজে বের করা হয়।’
ববিতার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার কারণ জানতে ভরতেঁতুলিয়া কবরস্থান কমিটির সদস্য আবুল হাশেমকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরনেনি।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ববিতার বাবা-মা, ভাই-বোন কেউ জীবিত নেই। তার আত্মীয়-স্বজনও লাশ নিতে রাজি নয়। আত্রাই উপজেলা ছাত্রলীগ দায়িত্ব নিয়ে সরকারি কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করে। পুলিশ তাদের সহায়তা করেছে যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে।’
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD