শাহরাস্তিতে সম্পত্তিগত বিরোধে আদালতে মামলা জায়গা দখলে প্রতিপক্ষের পায়তারা

শাহরাস্তিতে সম্পত্তিগত বিরোধে আদালতে মামলা
জায়গা দখলে প্রতিপক্ষের পায়তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শাহরাস্তিতে সম্পত্তিগত বিরোধে আদালতে মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ বিবাদমান জায়গাটি দখল করার পাঁয়তারা করছে। এমন অভিযোগ করেন মামলার বাদী।
ঘটনাটি শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের ঘটে।

জানা যায়, ওই গ্রামের ইব্রাহিম মেম্বার বাড়ি প্রকাশ প্রধানিয়া বাড়ির আনোয়ার হোসেনের পুত্র শামসুল হক (২৪)
এ বিষয়ে আদালতে ১৪৫ ধারা মতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১১০৩/১৯, তাং ২০।১১।১৯ইং।

জায়গার দলিল সূত্রে জানা যায়, ১৩৫ নং হোসেনপুর মৌজার সাবেক ১০৮ নং দাগের অন্দরে জাফর আলীর পুত্র রুস্তম আলী ৫/৬/১৯৭৬ সালে ৩৪১৭নং দলিলে ১৫.৭৫ শতক জায়গা একই বাড়ির ছবর আলীর পুত্র নুরুল হকের কাছে বিক্রি করেন।
অপর এক দলিলে ১২৯নং খতিয়ানের ৬৯ নং দাগে ১৮ ও ১৩৫ নং খতিয়ানের ১০৮ নং দাগে ৬.৭৫ সহ ২৪.৭৫ শতক জায়গা ২৫.৫০ শতক জায়গা একই দাতা পূর্বেকার গ্রহীতার কাছে বিক্রি করেন। গ্রহীতা উপরে উল্লেখিত ২ দলিলে সর্বমোট ৪০.৫০ শতক জায়গার মালিক হন। ২ দলিলে ৪০.৫০ শতক জায়গার মালিক নুরুল হক ৩১।১২।১৯৭৭ ইং সালে পুনরায় তার নাতিদের রেজিস্ট্রারি মূলে দান করেন। ওই থেকে নুরুল হকের নাতিরা উক্ত জায়গা ভোগ দখলে রয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী শামসুল হক বিগত ঘটনার ন্যায় গত ১৬ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ শনিবার সকালে প্রতিপক্ষগণ ৭/৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ মিলে বাদীর পৈত্রিক জায়গার গাছ কর্তন ও নতুন বৃক্ষরোপণ এবং জায়গার শ্রেণীর বিবর্তন করছিলো। এতে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন বাধা প্রদান করে। বাদীর বাধা উপেক্ষা করে বিবাদীগণ তাদের জবরদখল প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবহিত করেন। অবশেষে বাদী অপারগ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়।

এ বিষয়ে বাদী শামসুল হক বলেন, আমার দাদা নুরুল হক আজ থেকে ৪৪ বছর আগে উনার নিজ নামিয় দুই দলিলের সম্পত্তি আমাদেরকে দলিল মূলে প্রদান করেন। ওই থেকে আমরা ওই সম্পত্তি দখল মূলে ভোগে রয়েছি। বিবাদীগণ পরধন লোভী। যে কারণে এলাকার অনেকের সম্পদ দখল দিয়ে এভাবে নৈরাজ্যতা সৃষ্টি করে, যা নব্য ভূমিদস্যু হিসেবে সুশীল সমাজের কাছে বিবেচিত হয়। বিবাদীরা হলেন, একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র জয়নাল আবেদীন (৫৭) ও আবদুস সালাম (৬০), মৃত দুধু মিয়ার পুত্র আলী আকবর (৫৬), জয়নাল আবেদীন এর পুত্র লিটন মিয়া (৩২), মৃত সিরাজুল ইসলামের পুত্র রফিকুল ইসলাম (৪৫)সহ আরও অনেকে।
তিনি আরও বলেন, বিবাদীদের অত্যাচার-নির্যাতনে এলাকার বহু লোক অশান্তিতে দিনাতিপাত করছে। তারা অত্যাধিক পরিমাণে মামলাবাজ। তাদের ভয়ে এলাকার সুশীল সমাজ মুখ খুলতে চায় না। এমন ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারিতে কামনা করেন তিনি।

মৃত মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র জয়নাল আবেদীন বলেন, বিবাদমান জায়গাটি আমরা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হই। আমাদের ন্যায্য পাওনা জায়গাটি নুরুল হক গং ফিরিয়ে দিচ্ছেন না। তাই আমরা জবরদখল করে ওই সম্পত্তি নিজেদের জন্য বুঝে নিতে চাইছি। কিন্তু নুরুল হক গং’র পেশী শক্তির কারণে আমরা তা নিজেদের করে নিতে ব্যর্থ হয়েছি। অথচ বিবাদমান জায়গার প্রকৃত মালিক আমরা নিজেরাই ।

এলাকাবাসী বলেন, উক্ত জায়গাটি দলিল মূলে নুরুল হক মালিক হয়ে তার পরবর্তী ওয়ারিশদেরকে দলিল মূলে দিয়ে যান। ওই থেকে নুরুল হক গং উক্ত বিবাদমান জায়গায় চাষাবাদ করে ভোগ দখলে রয়েছেন। উক্ত মামলার বিবাদীগন এলাকার বিভিন্ন জনের জায়গা জমিন জবরদখল দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এই ধরনের নব্য ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD