কাজ কম কথা বেশি

পরীক্ষা মূলক প্রচার: বছর কয়েক আগে এক সাক্ষাত্কারে নায়ক রিয়াজ বলেছিলেন, ‘জন্মের পর থেকেই শুনছি, দেশের সিনেমায় দুর্দিন চলছে। দুর্দশার মধ্যেই আমাদের পথ চলতে হবে।

’ সিনেমার দুর্দিন এখনো চলছে। ২০১১ সাল থেকে এই দুর্দিনের নতুন নামকরণ হলো ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’। সোজা বাংলায় বললে, ‘ভাঙা-গড়ার সময়’। এই সময়ে অনেক নতুন চলচ্চিত্রমস্তিষ্ক যোগ হয়েছে ঢাকাই ছবিতে। আশা ছিল, স্বর্ণকার যেভাবে সোনা ভেঙে নতুন অলংকার গড়েন, সেভাবেই চলচ্চিত্রের একটা নতুন অবয়ব বা গতিপথ তৈরি হবে। ছয় বছর শেষে মনে হচ্ছে, নতুন অলংকার তৈরিতে স্বর্ণকাররা [নির্মাতারা] অনেক বেশি খাদ মিশিয়ে ফেলেছেন। শিল্পের সঙ্গে বাণিজ্যের সঠিক সংমিশ্রণটা তাঁরা হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না। অবশ্য আগের দুই বছরের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘আয়নাবাজি’ বা এ বছরের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ব্যতিক্রম। লক্ষ করলে দেখবেন, তিনটি ছবিই নতুন পরিচালকের। ‘ভাঙা-গড়ার সময়’টা সার্থক হতো, যদি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর পরের বছর আরো তিনটি ‘আয়নাবাজি’ হতো এবং ‘আয়নাবাজি’র পর এ বছর পাঁচটি ‘ঢাকা অ্যাটাক’ হতো।

এ বছর ব্যবসাসফল ছবি মাত্র তিনটি। ৫৬টি ছবির মধ্যে মাত্র তিনটি হিট! তিনটির দুটিই আবার যৌথ প্রযোজনার। অনেকেই এগুলোকে দেশি ছবি বলতে নারাজ। তাহলে তো সাফল্যের হার তলানিতে গিয়ে ঠেকে!

মূল ধারার তারকা নির্মাতা ও অভিনেতারা সারা বছর কাজের চেয়ে কথাই বলেছেন বেশি—‘এই ধরনের ছবি ভালো না’, ‘একে দিয়ে হবে না’, ‘সিনেমা এভাবে হয় না’। চলচ্চিত্র সমিতিগুলোর যত আগ্রহ ছিল নির্বাচন আর একে-ওকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাতেই। ‘নিষিদ্ধ’ শাকিব খানের ব্যক্তিজীবনেও ঝড় বয়ে গেছে। ২০১৭ সাল নায়করাজ রাজ্জাকের প্রস্থানের বছর। মৃত্যুর আগে পরিচালক-শিল্পী সমিতির ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন তিনিও। বছর শেষে মালেক আফসারীর বিবৃতি, মৌলিক ছবি বানানো বন্ধ করে দিতে হবে, মৌলিক ছবিই নাকি ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংসের মূলে!

গতবার বছর শেষের মূল্যায়নে রঙের মেলায় বলা হয়েছিল, ‘দরকার শুধু ছবির বাজার বাড়ানো। ’ এদিকে সত্যিই মনোযোগ দিয়েছেন পরিবেশকরা। ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ছবি বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে এ বছর। ‘ভাঙা-গড়ার সময়’-এর উল্লেখযোগ্য অর্জন এটা। নির্মাণ, প্রযোজনা-পরিবেশনার মতো দর্শকরাও যাচ্ছেন ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে। ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ও ‘ডুব’ মুক্তির সময় তা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত ফিল্মি অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে হঠাত্ নতুন কিছু গ্রহণ করতে দর্শকের অস্বস্তি হচ্ছিল ভীষণ। এই ইস্যুতে অনলাইনে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছেন দর্শক-নির্মাতা। এই বাদানুবাদকে স্বাস্থ্যকরই মনে হলো। নির্মাতাদের মতো দর্শকের মননও তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে। নির্মাতা ও দর্শক একে অপরের পরিপূরক। দর্শকের ধারণক্ষমতার ওপর বিশ্বাস করেই নির্মাতাকে ছবি বানাতে হয়। ভালো দর্শক পেলে নির্মাতার আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। এ বছরের বাদানুবাদ ভবিষ্যতের জন্য ‘আশীর্বাদ’ হয়ে উঠলেই ঢালিউডের জন্য মঙ্গল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD